রমজান মাসে মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সেহরির জন্য গভীর রাতে ঘুম থেকে ওঠা, দিনভর রোজা রাখা এবং রাতে তারাবি নামাজ—সব মিলিয়ে ঘুমের স্বাভাবিক সময়সূচি বদলে যায়। এজন্য অনেকেই জানতে চান, সেহরির পর শরীর সুস্থ রাখতে কত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তবে রমজানে রাতের ঘুম ভেঙে গেলে এই সময় একটানা না হয়ে কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে যেতে পারে।
গবেষকেরা জানান, সেহরি খাওয়ার পর যদি কাজ বা অফিসে যাওয়ার আগে কিছু সময় পাওয়া যায়, তাহলে ১.৫ থেকে ২ ঘণ্টা টানা ঘুমানো উচিত। কারণ ঘুমের একটি পূর্ণ চক্র সম্পন্ন হতে প্রায় ৯০ মিনিট লাগে। এর চেয়ে কম সময় ঘুমালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত হতে পারে। সম্ভব হলে সেহরির পর ১.৫ থেকে ৩ ঘণ্টা ঘুমানো আদর্শ।
যদি সেহরির পর ঘুমানো সম্ভব না হয়, তবে দিনের মধ্যে ২০-৩০ মিনিটের ছোট্ট ‘ন্যাপ’ নেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞরা দেন। এতে মনোযোগ বাড়ে এবং ক্লান্তি কমে।
বিশেষজ্ঞরা রমজানে ঘুমের সময় ভাগ করে নেওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করার জন্য কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন—তারাবির পর দ্রুত ঘুমানো, সেহরিতে ভারী খাবার এড়িয়ে চলা, দিনের ঘুম সীমিত রাখা এবং ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় কম নেওয়া। এভাবে ঘুমের সঠিক ভাগ রাখা সম্ভব হলে রমজানেও শরীর থাকবে সতেজ এবং রোজা পালনও সহজ হবে।
সিএ/এমআর


