ব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচাতে অনেকেই একবারে বেশি ভাত রান্না করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী সেই ভাত বারবার গরম করে খাওয়া হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অভ্যাস স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
চালের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই ‘ব্যাসিলাস সেরিয়াস’ নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকে। ভাত রান্না করার পরও এই স্পোর পুরোপুরি নষ্ট নাও হতে পারে। রান্না করা ভাত যদি দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় পড়ে থাকে, তাহলে এসব ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করে বিষাক্ত টক্সিন তৈরি করতে পারে।
বারবার ভাত গরম করলেও এই টক্সিন সব সময় নষ্ট হয় না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এমন ভাত খেলে ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা থেকে হজমজনিত সমস্যা বা দীর্ঘমেয়াদি লিভার জটিলতার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাত সংরক্ষণ ও গরম করার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। রান্নার এক ঘণ্টার মধ্যেই ভাত ঠান্ডা করে বায়ুরোধী পাত্রে ফ্রিজে রাখতে হবে। ঘরের তাপমাত্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি ভাত রাখা ঠিক নয়।
ফ্রিজ থেকে বের করার পর ভাত একবারই ভালোভাবে গরম করে খাওয়া উচিত। বারবার গরম ও ঠান্ডা করার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ে। ভাত গরম করার সময় নিশ্চিত করতে হবে যেন ভেতর পর্যন্ত ভালোভাবে গরম হয় এবং ধোঁয়া ওঠে।
ফ্রিজে রাখা ভাত সর্বোচ্চ দুই দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলা নিরাপদ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর বেশি সময় রাখলে ভাতের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ে।
সিএ/এমআর


