অনেক সময় বাবা-মায়ের চোখের আড়াল হলেই শিশুসন্তান দাঁত দিয়ে নখ কাটতে শুরু করে। বকাঝকা, ধমক কিংবা শাসন করেও অনেক ক্ষেত্রে এই অভ্যাস বন্ধ করা যায় না। এতে বাবা-মায়েরা দুশ্চিন্তায় পড়েন এবং কীভাবে এই বদভ্যাস ছাড়ানো যায় তা নিয়ে হিমশিম খান।
মনোবিদদের মতে, শুধু শাসন বা ভয় দেখিয়ে শিশুর দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস দূর করা সম্ভব নয়। বরং ধৈর্য ধরে যুক্তি দিয়ে বোঝালে এবং শিশুর মানসিক অবস্থার দিকে নজর দিলে এই সমস্যা ধীরে ধীরে সমাধান করা যায়। শিশুর মুখে আঙুল দেওয়া বা নখ কাটার প্রবণতা অনেক সময় স্বাভাবিক আচরণ হলেও, তা অভ্যাসে পরিণত হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
পড়াশোনার সময়, টিভি দেখতে দেখতে কিংবা খেলাধুলার ফাঁকে অনেক শিশু মুখে আঙুল দেয় বা দাঁত দিয়ে নখ ও নখের চারপাশের চামড়া কাটে। এতে মুখের ভেতরে জীবাণু প্রবেশ করে পেটের অসুখসহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাঁত দিয়ে নখ কাটা এক ধরনের ‘নার্ভাস হ্যাবিট’। একাকীত্ব, মানসিক চাপ, অবসাদ কিংবা দুশ্চিন্তা থেকেও এই ধরনের বদভ্যাস গড়ে উঠতে পারে।
মনোবিদদের মতে, প্রথমেই জানতে হবে—কোন কারণে শিশুটি এই অভ্যাসে অভ্যস্ত হচ্ছে। অনেক সময় বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব, পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া কিংবা মানসিক অস্থিরতা থেকেও শিশু এমন আচরণ করে। তাই ভালো অভ্যাস গড়ে তোলার আগে শিশুর মনের ভেতরে কোনো সমস্যা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
শিশুর এই বদভ্যাস ছাড়াতে কিছু কার্যকর উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে। কোন পরিস্থিতিতে শিশুটি দাঁত দিয়ে নখ কাটে, তা লক্ষ্য করে সেই সময় তাকে অন্য কাজে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। নিয়মিত নখ ছোট করে কেটে দিলে নখ কাটার সুযোগ কমে যায়। পাশাপাশি দাঁত দিয়ে নখ কাটলে কী ধরনের শারীরিক ক্ষতি হতে পারে, তা সহজভাবে বোঝানো প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে নখে তেতো কিছু লাগালে শিশুরা নিজেরাই এই অভ্যাস এড়িয়ে চলে। তবুও কাজ না হলে চিকিৎসক বা মনোবিদের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিএ/এমআর


