কলা সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফল। বছরের বেশিরভাগ সময় যখন অন্যান্য ফলের দাম বেশি থাকে, তখন কলা তুলনামূলকভাবে সবার নাগালের মধ্যেই থাকে। দ্রুত শক্তি পাওয়া, হজমশক্তি উন্নত করা এবং দৈনন্দিন পুষ্টির ঘাটতি পূরণে কলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে উপকারী হলেও অতিরিক্ত খেলে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিদিন কতগুলো কলা খাওয়া উচিত, তা জানা জরুরি।
কলা শরীরকে প্রাকৃতিক শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। একটি মাঝারি আকারের কলায় পর্যাপ্ত জটিল শর্করা থাকে, যা দ্রুত শক্তি জোগায়। এতে রয়েছে খাদ্যতালিকাগত ফাইবার, পটাশিয়াম ও ভিটামিন বি৬, যা হজমশক্তি উন্নত করে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি কলায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে, যদিও এতে চর্বি ও সোডিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন দুটি কলা খাওয়া নিরাপদ ও উপকারী। শারীরিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিরা শক্তির ঘাটতি পূরণে দিনে দুটি কলা সহজেই খেতে পারেন। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি। একই ধরনের খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কলা খাওয়ার পরিমাণ সীমিত রাখা প্রয়োজন। কলায় প্রাকৃতিক চিনি থাকে, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়াতে পারে। এ ছাড়া এতে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি হওয়ায় কিডনির কার্যকারিতা দুর্বল হলে অতিরিক্ত কলা শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে কলা খেলে হজমশক্তি ভালো থাকে। কলার ফাইবার ও পেকটিন অন্ত্রের গতি স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং পেট ফাঁপা কমায়। এতে থাকা পটাশিয়াম হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। ভিটামিন বি৬ মস্তিষ্কে ভালো লাগার হরমোন সেরোটোনিন ও ডোপামিন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রতিদিন এক থেকে দুইটি কলা অধিকাংশ মানুষের জন্য যথেষ্ট। নিজের শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
সিএ/এমআর


