সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনধারা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে। ব্যস্ত জীবনের কারণে আজকাল বেশি মানুষ বাইরের খাবার খাচ্ছে, যা স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। এর পেছনে খাদ্যাভ্যাস ছাড়াও কিছু জিনগত কারণ রয়েছে, যা কিছু মানুষের ভালো কোলেস্টেরলের তুলনায় খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কিছুটা বেশি রাখে। এশীয়দের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
হার্ট ভালো রাখার জন্য কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। যখন কোলেস্টেরলের মাত্রা ২০০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের বেশি হয়, তখন উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। মানবদেহে প্রধানত দুই ধরনের কোলেস্টেরল থাকে—
উচ্চ ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein/HDL), যা ভালো কোলেস্টেরল হিসেবে পরিচিত।
নিম্ন ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein/LDL), যা খারাপ কোলেস্টেরল হিসেবে পরিচিত।
উচ্চ মাত্রার LDL কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
ভালো কোলেস্টেরল বা HDL বাড়ানোর কোনো ওষুধ নেই। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. প্রবীণ চন্দ্র বলেন, “ভালো কোলেস্টেরল বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গ্রহণ করা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এশীয়দের HDL ৩৫-৪০-এর উপরে থাকলে তা ভালো, আর ৫০-এর ওপরে থাকলে খুব ভালো ধরা হয়।”
ভালো কোলেস্টেরল বাড়ানোর উপায়
ডা. প্রবীণ চন্দ্রের মতে, কিছু ছোটখাটো জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে HDL বাড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে যাদের খারাপ কোলেস্টেরল বেশি, তাদের প্রথমে জীবনধারায় পরিবর্তন আনা জরুরি।
নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিক কার্যক্রম।
স্বাস্থ্যকর ও তেলবিহীন খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ।
ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার যেমন মাছ, বাদাম, তিল খাওয়া।
অতিরিক্ত মিষ্টি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা।
ধূমপান ও অ্যালকোহল সীমিত করা।
এই অভ্যাসগুলো HDL কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
সিএ/এএ


