পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় একটি বসতঘর থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোর তুহিন হাওলাদারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৮ জুন) দুপুরে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের পুরাতন বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীরা খোঁজ নিতে গেলে ঘরের ভেতরে কিশোরটিকে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তুহিন হাওলাদারের বাবা মনির হাওলাদার বর্তমানে একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে মা শেফালী বেগম নানা বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। পরিবারের তিন সন্তানের মধ্যে তুহিন ছিল বড়, আর তার দুই ছোট বোন মায়ের সঙ্গে থাকত বলে জানা গেছে। ফলে তুহিন বাড়িতে একাই থাকত।
পারিবারিক বিরোধ ও আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি মানসিকভাবে চাপের মধ্যে ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে কিশোরটির মৃত্যুর পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
প্রতিবেশীরা জানান, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দীর্ঘ সময় ঘরের দরজা বন্ধ দেখে সন্দেহ হয়। পরে ভেতরে গিয়ে তারা ঝুলন্ত অবস্থায় তুহিনকে দেখতে পান।
খবর পেয়ে চরমোন্তাজ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
তুহিনের মা শেফালী বেগম বলেন, “আমার ছেলে আমাকে কিছুই বলেনি। তার সঙ্গে কোনো কথাও হয়নি। মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “কে জানি তার গাড়ি আটকেছিল। এর সপ্তাহখানেক আগে বাজারের এক ঘরে রাতে ঢুকেছিল। মেম্বার সালিশিও করেছে।”
চরমোন্তাজ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বেলাল হোসেন বলেন, “সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
সিএ/এমই


