ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বড় একটি অংশে প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক ও শিক্ষাকার্যক্রমে সমস্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলায় মোট ১৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮টিতে প্রধান শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এসব বিদ্যালয় বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৭ সাল থেকে অবসর, বদলি ও পদোন্নতি না হওয়ায় একাধিক বিদ্যালয়ে এই পদ শূন্য পড়ে আছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সরেজমিনে বাঞ্ছারামপুর সদর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৭৪০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক কাজে গতি কমে গেছে এবং সহকারী শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব পড়ছে, ফলে পাঠদান কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
অভিভাবকরা জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের প্রায়ই দাপ্তরিক কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যেতে হয়, যার কারণে ক্লাস কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকরা সমমর্যাদার হওয়ায় নির্দেশনা বাস্তবায়নে অনীহা দেখা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পাড়াতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাসিমা আলম বলেন, নিয়মশৃঙ্খলা ঠিকভাবে না থাকায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।
শিক্ষকরা জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় একদিকে প্রশাসনিক দায়িত্ব বেড়েছে, অন্যদিকে পাঠদানে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদের তালিকা জেলা পর্যায়ে পাঠানো হচ্ছে, তবে এখনো সমাধান পাওয়া যায়নি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সামসুল আলম জানান, নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ২২৮ জন শিক্ষক জেলায় যোগ দেবেন। সেখান থেকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় প্রধান শিক্ষকসহ শূন্য পদে পদায়ন করা হবে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মো. সেলিম রেজা বলেন, প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষক পদোন্নতি ছাড়াই অবসরে যাচ্ছেন, যা শিক্ষাক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সিএ/এমই


