পরিবার ভাঙনের অভিজ্ঞতা শিশুদের মানসিক গঠনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক সময়ে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী নোরা ফতেহি নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরার পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
নোরা জানান, খুব ছোট বয়সেই তাঁর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর মায়ের একক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন তিনি। বিচ্ছেদের পর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা তাঁর মানসিক জগতে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
তিনি বলেন, কোনো সম্পর্কে যাওয়ার আগে আমি অনেক ভাবি। কারণ আমার মাথায় বারবার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের স্মৃতি ফিরে আসে।
নোরার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, আবেগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। তিনি আরও বলেন, অনেক ভালো মানুষের সঙ্গেও দেখা হয়েছে, কিন্তু সেই ভয় আমাকে পিছিয়ে দেয়।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ শিশুদের মনে ভয়, অনিশ্চয়তা, দুঃখ ও ক্ষোভের জন্ম দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুর আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে ভীতি তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের আচরণ সন্তানের মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হলে সন্তানের বয়স অনুযায়ী তাকে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানানো উচিত। একই সঙ্গে বাবা-মায়ের একজন সম্পর্কে আরেকজনের নেতিবাচক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সন্তান যেন নিজেকে একা মনে না করে, সে বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে।
মনোবিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, সন্তানের অনুভূতি মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজনে শিশু মনোবিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া জরুরি। তাদের মতে, ভালোবাসা, ধৈর্য ও পারিবারিক সহায়তা থাকলে কঠিন পরিস্থিতিও অনেকটা সহজ হয়ে ওঠে।
বিয়ে বিচ্ছেদ জীবনের কঠিন বাস্তবতা হলেও, সন্তানের মানসিক নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করা অভিভাবকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিএ/এমআর


