ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ভিটি বিশারা নয়াপাড়া এলাকার মৃত মফিজুল ইসলাম মোহন মিয়া ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রশিক্ষক এবং সমাজসেবক। তবে জীবদ্দশায় তিনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবার ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মফিজুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে বরিশালের গৌরনদী থানায় কর্মরত অবস্থায় সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। সে সময় তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে থানার অস্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ মালামাল নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করেন। পাশাপাশি স্থানীয় তরুণদের সংগঠিত করে প্রশিক্ষণ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা দল গঠনে ভূমিকা রাখেন বলেও দাবি করা হয়।
পরিবার জানায়, যুদ্ধকালীন সময়ে তার এই ভূমিকার কারণে তিনি এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। সহযোদ্ধাদের সাক্ষ্য ও তৎকালীন কর্মকাণ্ড তার মুক্তিযুদ্ধের অবদানকে সমর্থন করে বলেও দাবি তাদের।
মুক্তিযুদ্ধ শেষে জেনারেল ওসমানীর স্বাক্ষরিত সনদ পেলেও পরবর্তীতে তা গেজেটভুক্ত না হওয়ায় তিনি সরকারি স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হন বলে অভিযোগ করা হয়। পরিবারের দাবি, বরিশাল থেকে গেজেটভুক্তির জন্য টেলিগ্রাম এলেও তখন তিনি অসুস্থ থাকায় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা চালু হলেও গেজেটবিহীন হওয়ায় তিনি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি।
২০১৬ সালে তার মৃত্যু হয়। জীবদ্দশায় তিনি কুমিল্লা ও নিজ গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন।
তার ছেলে সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম তরুণ বলেন, আমার বাবা ছিলেন একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু তিনি জীবদ্দশায় মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাননি। কোনো সরকারই তার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করেনি।
তিনি আরও বলেন, যারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাননি, তাদের বিষয়টি পুনরায় মূল্যায়ন করা উচিত এবং প্রয়োজনে সন্তানদেরও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালে নবীনগর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় তার নাম পাঠানো হলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। ওই সময় তার রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে তাকে ভুলভাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।
স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে এখনো আলোচনা রয়েছে এবং তার মুক্তিযুদ্ধকালীন অবদান নিয়ে ভিন্নমত নেই বলে দাবি পরিবারের। তবে রাষ্ট্রীয় গেজেটভুক্ত না হওয়ায় তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়নি।
সিএ/এমই


