রংপুরের বদরগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষে আরিফুল ইসলাম (২৫) নামে এক রিকশাচালককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে পৌর শহরের আম্বিয়ার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত আরিফুল ইসলাম পৌর শহরের পাঠানপাড়া এলাকার রেজাউল ইসলামের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, তিনি পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলেন এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবারটি চরম সংকটে পড়েছে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, পূর্বের একটি হত্যাচেষ্টা মামলাকে কেন্দ্র করে পৌর শহরের শংকরপুর বটপাড়া এলাকার ফিরোজ গ্রুপ এবং পাঠানপাড়া এলাকার কয়েকজন যুবকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে উভয়পক্ষ রংপুর আদালতে হাজিরা দিতে গেলে সেখানে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক ও একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এর জেরে দুপুরের দিকে উত্তেজনা আরও বাড়ে। অভিযোগ রয়েছে, পাঠানপাড়া গ্রুপের কিছু লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে ফিরোজ ইসলামের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফিরোজ গ্রুপের সদস্যরা প্রতিশোধ নিতে এলাকায় মহড়া দিতে থাকে এবং প্রতিপক্ষকে খুঁজতে থাকে।
বিকেলে আম্বিয়ার মোড় এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাচালক আরিফুল ইসলামের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, হামলাকারীদের একজন চিৎকার করে বলে ওঠে, “এই ছেলের বাড়ি পাঠানপাড়ায়, একে ধরো।” এর পরপরই কয়েকজন সশস্ত্র যুবক তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. যাদোবেন্দ্র নাথ সরকার জানান, নিহতের মাথা ও ঘাড়ে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আঘাতগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পেলেও বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ত।
এদিকে সন্ধ্যায় হাসপাতালে নিহতের স্ত্রী শারমিন খাতুন তিন বছরের শিশু কন্যা আখি মনিকে নিয়ে স্বামীর মরদেহের পাশে আহাজারি করেন। তার কান্নায় উপস্থিত সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়ে চলেছে। আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন, দুই পক্ষের পূর্ব বিরোধের জেরেই আদালতে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে প্রতিপক্ষকে না পেয়ে নিরীহ এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সিএ/এমই


