কক্সবাজারের রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের বোমাংখিল গ্রাম থেকে শাহীন বাহিনীর অন্যতম সদস্য ও ‘ম্যানেজার’ হিসেবে পরিচিত নুরুল আবছারকে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
মঙ্গলবার ভোরে পরিচালিত এ অভিযানে দেশি তৈরি চারটি একনলা বন্দুক, একটি দোনলা বন্দুক, আট রাউন্ড গুলি এবং ছয়টি খালি খোসা উদ্ধার করা হয়।
নুরুল আবছার (৩৪) একই গ্রামের ফরিদুল আলমের ছেলে। বিজিবির দাবি, তিনি সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় চোরাচালান, গরু পাচার ও মাদক ব্যবসায় জড়িত চক্র ‘শাহীন বাহিনী’র অন্যতম সহযোগী এবং মাদক কারবারি শাহীন ডাকাতের ঘনিষ্ঠ সহচর।
নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস কে এম কফিল উদ্দিন বলেন, “নুরুল আবছার শাহীন বাহিনীর হয়ে চোরাই গরু সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়িত্বে ছিলেন, এজন্য ‘ম্যানেজার’ নামে পরিচিত হন। তিনি সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত।”
বিকেলে তাকে উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলিসহ রামু থানায় হস্তান্তর করা হয়। তার বিরুদ্ধে আগেও হত্যা, মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে, ২১ জুলাই নাইক্ষ্যংছড়ির জামছড়ি সীমান্তে ইয়াবা পাচারের সময় বিজিবির অভিযানে নুরুল আবছারের পাঠানো ৯ হাজার ৬৬০টি ইয়াবা জব্দ করা হয়। তবে সেদিন তিনি পালিয়ে যান। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তার নাম রয়েছে।
এছাড়া ১৪ মার্চ গর্জনিয়ায় শাহীন বাহিনীর গুলিতে আবু তালেব নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। সেই ঘটনায়ও নুরুল আবছারের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
উল্লেখ্য, ৫ জুন চোরাচালান চক্রের প্রধান ও যুবলীগ নেতা শাহীনুর রহমান ওরফে শাহীন ডাকাতকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে একটি এ কে ২২ রাইফেল, তিনটি একনলা বন্দুক, ২০ হাজার ইয়াবা, গুলি ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, মাদকসহ ২০টি মামলা রয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার নেতৃত্বাধীন বাহিনীতে ৪০-৪৫ জন সদস্য রয়েছে বলে জানা গেছে, যারা ভারী অস্ত্র ও বিপুল অর্থসহ এলাকায় সক্রিয়ভাবে operates করছে।


