পাবলিক পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নপত্র ফাঁস, ডিজিটাল কারসাজি এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস অফেন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটি পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন প্রস্তাবিত বিলটি উপস্থাপন করেন। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, পাবলিক পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নফাঁস, জাল সনদ তৈরি এবং অন্যান্য অসদুপায় রোধে ১৯৮০ সালে বিদ্যমান আইন প্রণয়ন করা হলেও প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় বর্তমান আইনের বেশ কয়েকটি ধারা আর যুগোপযোগী নেই।
প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধগুলোকে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি প্রতিরোধ করে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
বিলে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ শব্দটির সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় পরীক্ষার ডেটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, তথ্য পরিবর্তন, সাইবার উপায়ে কারসাজি এবং অন্যান্য ডিজিটাল জালিয়াতিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
প্রস্তাবিত আইনে ডিজিটাল কারসাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া সংঘবদ্ধভাবে প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষায় জালিয়াতি কিংবা এ ধরনের অপরাধে জড়িত চক্র গঠন বা পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তি ও আর্থিক জরিমানার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরকারের মতে, ডিজিটাল যুগে পাবলিক পরীক্ষার নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। প্রস্তাবিত সংশোধনী কার্যকর হলে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে আইনি সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিএ/এমআর


