দেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন। সোমবার সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
পারিবারিক সূত্র জানায়, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ১৪ জুন তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর স্ত্রী মেরী মনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই গুণী শিল্পী। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরেও তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। পরে কিছুটা সুস্থ হলেও সম্প্রতি নিউমোনিয়ার ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির অঙ্গনে মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন এক উজ্জ্বল নাম। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি আর্ট কলেজে শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে দেশে পাপেট শোর বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। টেলিভিশনে শিশুদের জন্য নির্মিত তাঁর বিভিন্ন অনুষ্ঠান দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আনন্দ দিয়েছে।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান। শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।
মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে দেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী, শিক্ষার্থী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও অনুরাগীরা তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে গভীর শোক প্রকাশ করছেন।
সিএ/এমআর


