ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে। সম্মেলন শেষে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে যৌথ সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের কথা রয়েছে।
দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে এ বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবারের সম্মেলনে উভয় পক্ষ তাদের নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরে পুশইন বা অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেছে।
এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা, ভারত থেকে বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মানব পাচার রোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশ সীমান্ত এলাকায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং সেগুলোর নিষ্পত্তি নিয়ে মতবিনিময় করেছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা এবং বিদ্যমান বিভিন্ন জটিলতা সমাধানের লক্ষ্যে দুই বাহিনীর মধ্যে ধারাবাহিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এ ছাড়া তিনবিঘা করিডোর ব্যবহার করে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থেকে দহগ্রাম পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপনসহ বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। সীমান্ত এলাকার যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সংক্রান্ত এসব বিষয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিরা নিজেদের মতামত বিনিময় করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা, চোরাচালান, মানব পাচার এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। মহাপরিচালক পর্যায়ের এ ধরনের বৈঠক দুই দেশের সীমান্ত সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সম্মেলনের সমাপনী দিনে আলোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উভয় পক্ষের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিএ/এমআর


