দেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাব ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু ইতোমধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে এটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ার পাশাপাশি ঝড়ো হাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের ১৪টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পাঁচ দিনের আবহাওয়া পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতির কারণে আগামী কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং রংপুর, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে বর্ষার এই আবহের মধ্যেও দেশের কয়েকটি অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। রাজশাহী, পাবনা, নীলফামারী, চুয়াডাঙ্গা ও খুলনা জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহ আরও বিস্তার লাভ করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টিপাত বাড়লেও সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে একদিকে বর্ষার বৃষ্টি, অন্যদিকে কিছু অঞ্চলে তাপপ্রবাহ—দুই ধরনের আবহাওয়াই একসঙ্গে বিরাজ করতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মৌসুমি বায়ুর পূর্ণ বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে দেশের অধিকাংশ এলাকায় নিয়মিত বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কৃষি ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সিএ/এমআর


