খুলনা মহানগরীর তারেকপুকুর মোড়ে অবস্থিত জাতিসংঘ শিশু পার্কে ১০ দিনব্যাপী ঈদ মেলা আয়োজনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে টাইফুন শিল্পীগোষ্ঠী। সংগঠনটি জামায়াত সমর্থিত হিসেবে পরিচিত। তবে পার্কে মেলার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)।
নগরীর একমাত্র উন্মুক্ত শিশু পার্ক হিসেবে পরিচিত এই পার্কে প্রতিদিন বিকেলে শিশু-কিশোরদের ভিড় থাকে। এখানে খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য শিশুদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সের মানুষও সময় কাটাতে আসেন। অতীতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক দলের নেতাদের উদ্যোগে পার্কে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সে সময় দীর্ঘদিন ধরে খেলাধুলা বন্ধ রেখে মেলার মাধ্যমে মোটা অঙ্কের মুনাফা অর্জনের অভিযোগও রয়েছে।
গত বছর বিএনপি ও ছাত্র সমন্বয়কসহ সাতটি সংগঠন ঈদ উপলক্ষে পার্কে মেলা বসানোর আবেদন করেছিল। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর কেসিসি পার্কে সব ধরনের মেলা আয়োজন বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে পার্কে শিশুদের জন্য নতুন খেলনা স্থাপন, মাটি ভরাট, খেলনা রং করা ও সংস্কারের কাজ চলছে। আপাতত পার্কটি বন্ধ থাকলেও ঈদের আগে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মধ্যেই গত ২২ ফেব্রুয়ারি টাইফুন শিল্পীগোষ্ঠীর পরিচালক নুরুজ্জামান নোমান কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ১০ দিনব্যাপী ঈদ মেলার অনুমতি চেয়ে আবেদন জমা দেন। বর্তমানে আবেদনটি কেসিসির বৈষয়িক কর্মকর্তার দপ্তরে রয়েছে।
খুলনা মহানগরীতে কেসিসির অধীনে মোট ছয়টি পার্ক রয়েছে। এর মধ্যে গোলকমণি, নিরালা ও সোনাডাঙ্গা শিশু পার্ক কেবল নামেই আছে। হাদিস পার্কে প্রায়ই বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়, ফলে সেখানে শিশুদের খেলাধুলার পরিবেশ নেই। খালিশপুর শিশু পার্কটি ইজারা দেওয়া থাকায় প্রবেশমূল্য বেশি হওয়ায় নিম্ন আয়ের পরিবারের অনেক শিশুই সেখানে যেতে পারে না। এ অবস্থায় জাতিসংঘ শিশু পার্কই নগরবাসীর জন্য প্রধান বিনোদনকেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদসহ বছরের বিভিন্ন সময়ে পার্কটি ইজারা দেওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় খেলাধুলা বন্ধ থাকে। এছাড়া পার্কের এক পাশে একটি বেসরকারি হাসপাতাল এবং অন্য পাশে মসজিদ থাকায় সেখানে উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান হলে রোগী ও মুসল্লিদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। মেলা বসালে পার্কের খেলনা ও মাঠও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
কেসিসির কর্মকর্তারা জানান, রাজনৈতিক তদবিরের কারণে অনেক সময় নামমাত্র মূল্যে পার্ক ইজারা দেওয়া হয়। পরে সংগঠনগুলো সেই ইজারাপত্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকায় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেয়। ফলে ১০ দিনের একটি ঈদ মেলায় মোট ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার বাণিজ্য হয়। অতীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত নেতাদের মধ্যে এসব অর্থ ভাগাভাগির অভিযোগও রয়েছে।
কেসিসির বৈষয়িক কর্মকর্তা গাজী সালাউদ্দিন বলেন, ‘কয়েক দিন আগে মুকুল নামে এক ব্যক্তি ফোন করে দ্রুত অনুমতির ফাইল রেডি করতে চাপ দেন। খুলনা-২ আসনের এমপির নামও ব্যবহার করেন। তাঁকে বলেছি, এটি প্রশাসকের এখতিয়ার।’
খুলনা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে এসেছিল। আমি বলেছি, আমি কোনো সুপারিশ করতে পারব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই পার্কে আগেও মেলা, অনুষ্ঠান, নাচ-গান হয়েছে। টাইফুন ওদের মতো করে মেলা বা অনুষ্ঠান করার আবেদন করেছে। যেখানে একটি জিনিস হচ্ছে, সেখানে অন্যরাও তো সেই জিনিসের আবেদন করতে পারে। কেসিসি যদি কাউকে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ওরাও করবে না।’
খুলনা সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘মেলায় নানা আপত্তিকর কাজ হয়; নষ্ট হয় শিশুদের খেলার পরিবেশ। জাতিসংঘ পার্কের মেলায় একজন খুনও হয়েছে। আমি এসব মেলা চাই না।’
সিএ/এএ


