টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ না করেই উত্তরা স্পিনিং মিলস লিমিটেড বন্ধ ঘোষণা করায় শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কারখানার শ্রমিকরা। পরে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গোড়াই এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে অবস্থিত উত্তরা স্পিনিং মিলস লিমিটেড। গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকা, কাঁচামাল সংগ্রহে সমস্যা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা না পাওয়ায় গত তিন মাস ধরে মিলটিতে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার কারখানা পুনরায় চালু হওয়ার কথা থাকলেও সকালে কাজে যোগ দিতে এসে শ্রমিকরা প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখেন। একই সঙ্গে সেখানে কারখানা বন্ধের একটি নোটিশ টাঙানো ছিল।
এ সময় হঠাৎ করে মিল বন্ধের ঘোষণা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শ্রমিকরা। কারখানার তিন শতাধিক শ্রমিক প্রথমে প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই সড়কে টাঙ্গাইলমুখী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।
খবর পেয়ে মির্জাপুর সেনা ক্যাম্পের মেজর হাফিজ, মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার আনোয়ার পারভেস শাহআলম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তারা মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা করেন।
কারখানার শ্রমিক তাসলিমা আক্তার, শামসুন্নাহার এবং সহকারী প্রকৌশলী তোষার শীল জানান, বৃহস্পতিবার কারখানা চালুর কথা থাকলেও সকালে এসে তারা প্রধান ফটকে তালা দেখতে পান। এছাড়া সেখানে বন্ধের নোটিশ টাঙানো ছিল। তারা বলেন, এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কোনো শ্রমিক বা কর্মচারী আগে থেকে জানতেন না। দুই মাসের বেতন ও বোনাস পরিশোধ না করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা হতবাক হয়েছেন।
উত্তরা স্পিনিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জলীলাল মেদীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে কারখানার নিরাপত্তা কর্মকর্তা আব্দুছ সাত্তার মন্ডল বলেন, তিন মাস ধরে কারখানায় লে অফ বা সাময়িক উৎপাদন বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার কারখানা খোলার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ বন্ধের নোটিশ দিয়েছে। এ কারণে কিছু শ্রমিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শ্রমিকদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে সেনা ক্যাম্পের মেজর হাফিজসহ সেনা সদস্য ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলে তারা অবরোধ তুলে নেন এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করেন।
সিএ/এএ


