বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটি পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।
রোববার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সংসদে বিলটি উপস্থাপন করেন। পরে বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশে উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা গবেষণা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯৮-এর আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে এর অধীনে একটি সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক, সহায়ক জনবল এবং কার্যকর পরিচালন কাঠামোর অভাবে হাসপাতালটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল পরিচালনাকে আরও কার্যকর করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর অধীনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যমান আইনে সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণার সম্প্রসারণে লাভজনক কিংবা অলাভজনক কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান গঠন করতে পারবে। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে শেয়ার ক্রয়, ধারণ এবং প্রয়োজনে হস্তান্তরের ক্ষমতাও বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই কাঠামোর আওতায় আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হলে দেশি-বিদেশি খ্যাতনামা চিকিৎসক, শিক্ষক ও গবেষকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া সহজ হবে। এর মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের সুযোগ আরও বাড়বে।
এছাড়া এসব কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্জিত আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে পুনঃবিনিয়োগ করা যাবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক সক্ষমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিএ/এমআর


