ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি বৈভব সূর্যবংশী। বয়স মাত্র ১৫ হলেও বড় মঞ্চে ব্যাট হাতে যে আত্মবিশ্বাস দেখাচ্ছেন, তা আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে তাকে। এবার শ্রীলঙ্কা ‘এ’-এর বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৯ ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ঝড়ো ইনিংস খেলে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন এই তরুণ ব্যাটার।
ডাম্বুলার রঙ্গিরি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় শ্রীলঙ্কা ‘এ’। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন সূর্যবংশী।
লংকান পেসার মোহাম্মদ শিরাজকে বাউন্ডারি মেরে ইনিংস শুরু করা এই বাঁহাতি ব্যাটার দ্রুত রান তোলার পথে এগোতে থাকেন। সাম্প্রতিক সময়ে অফ-ফর্ম ও মাঠের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে আলোচনায় থাকলেও ফাইনালে ব্যাট হাতে তার জবাব ছিল দৃশ্যমান।
বিশেষ করে প্রতিপক্ষের দ্বিতীয় ওভারেই ম্যাচের গতি বদলে দেন তিনি। ওই ওভারে তিনটি ছক্কা ও দুটি চার হাঁকিয়ে তোলেন ২৬ রান। এরপর ইনিংসের পঞ্চম ছক্কাটি লং-অনের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে মাত্র ১১ বলে পূর্ণ করেন অর্ধশতক।
এই কীর্তির মধ্য দিয়ে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম ফিফটির নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন সূর্যবংশী। এর আগে এই রেকর্ড ছিল শ্রীলঙ্কার কৌশল্য বীরা রত্নের দখলে। ২০০৫ সালে রাগামা ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে তিনি ১২ বলে অর্ধশতক করেছিলেন।
শুধু আন্তর্জাতিক পর্যায়েই নয়, ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের রেকর্ডও নতুন করে লিখেছেন এই কিশোর। এতদিন ভারতীয়দের মধ্যে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড ছিল সরফরাজ খানের, যিনি বিজয় হাজারে ট্রফিতে ১৫ বলে ফিফটি করেছিলেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত সীমিত সংখ্যক ম্যাচ খেললেও ইতোমধ্যেই নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছেন সূর্যবংশী। বিহারের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ১৯০ রানের ইনিংসও রয়েছে তার ক্যারিয়ারে। ফাইনালের এই পারফরম্যান্স তাকে ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এলো।
সিএ/এমই


