বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল খেলোয়াড় লিওনেল মেসির জীবনযাপন, অনুশীলন এবং খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই। দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলে যাওয়ার পেছনে তাঁর কঠোর শৃঙ্খলা, বিজ্ঞানভিত্তিক খাদ্য পরিকল্পনা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হয়।
মেসি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি কথা না বললেও তাঁর পুষ্টিবিদ ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, খাদ্যাভ্যাসের বিষয়ে তিনি অত্যন্ত সচেতন। কোটি কোটি ডলারের মালিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর সবচেয়ে প্রিয় খাবার কোনো বিলাসবহুল আন্তর্জাতিক পদ নয়; বরং শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত একটি আর্জেন্টাইন খাবার।
বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে মেসি জানিয়েছেন, তাঁর সবচেয়ে প্রিয় খাবার ‘মিলানেসা নাপোলিতানা’। ব্রেডক্রাম্বে মোড়ানো মাংস বা চিকেন কাটলেটের ওপর টমেটো সস, হ্যাম ও গলানো চিজ দিয়ে তৈরি এই খাবার আর্জেন্টিনায় বেশ জনপ্রিয়। তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো মায়ের হাতে তৈরি মিলানেসা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক ভালো মিলানেসা খেলেও মায়ের রান্নার স্বাদকে তিনি কখনো ছাড়িয়ে যেতে দেখেননি।
মেসির আরেকটি পছন্দের খাবার হলো ‘আসাদো’, যা আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী বারবিকিউ সংস্কৃতির অংশ। এতে গরু, ভেড়া বা সসেজসহ বিভিন্ন ধরনের মাংস ধীরে ধীরে আগুনে গ্রিল করা হয়। আর্জেন্টিনায় এটি শুধু খাবার নয়, পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনেরও প্রতীক। জানা যায়, মেসির মায়ামির বাসভবনেও বড় গ্রিলের ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে তিনি পরিবার নিয়ে আসাদো উপভোগ করেন।
কঠোর খাদ্যনিয়ন্ত্রণের মধ্যেও মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রতি মেসির দুর্বলতা রয়েছে। পাস্তা, চকোলেট, ডুলসে দে লেচে এবং আইসক্রিম তাঁর পছন্দের তালিকায় রয়েছে। তবে তিনি এসব খাবার পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করেন, যাতে ফিটনেস বজায় থাকে।
মেসির দৈনন্দিন জীবনের আরেকটি পরিচিত অভ্যাস হলো ইয়ারবা ম্যাটে পান করা। দক্ষিণ আমেরিকায় জনপ্রিয় এই পানীয়টিকে কফির বিকল্প হিসেবে ধরা হয়। এতে প্রাকৃতিক ক্যাফেইনের পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও রয়েছে। মেসি জানিয়েছেন, আগে তিনি মিষ্টি ম্যাটে পছন্দ করলেও বর্তমানে তিতা স্বাদের ম্যাটে পান করেন।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন এনেছেন এই বিশ্বকাপজয়ী তারকা। তরুণ বয়সে পিৎজা, সফট ড্রিংকস ও ভারী খাবারের প্রতি ঝোঁক থাকলেও বর্তমানে তিনি তাজা শাকসবজি, ফলমূল, শস্য, মাছ, অলিভ অয়েল ও পুষ্টিকর প্রাকৃতিক খাবারের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন।
তাঁর পুষ্টিবিদদের মতে, আগে সালাদ বা সবজি, এরপর মাছ বা মাংস এবং সবশেষে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। মেসিও সেই পদ্ধতি অনুসরণ করেন। পাশাপাশি শস্য, ডাল, আলু, ডিম, মাছ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারকে তিনি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখেন।
সূত্র: ম্যাশড ডট কম, গোল
সিএ/এমআর


