রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলা ও রোগীর মৃত্যু ঘিরে সংঘর্ষ, উত্তেজনা এবং মরদেহ হস্তান্তরে জটিলতার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর মৃত নারীর ছেলেকে চিকিৎসকদের সামনে কান ধরে উঠবস করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
শনিবার (১৩ জুন, ২০২৬) ভোরে নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার নূর নাহার বেগমকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়। স্বজনদের দাবি, ভর্তির মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। এরপর অক্সিজেন সংকট ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং রোগীর স্বজন ও কর্তব্যরত চিকিৎসকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। এ সময় মেডিক্যাল অফিসার ডা. রাকিব হাসান ও ইন্টার্ন চিকিৎসক নাইম বকশী মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ঘটনার বিচার দাবি করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। প্রায় দুই ঘণ্টা জরুরি বিভাগের সেবা ব্যাহত হয় বলে হাসপাতাল সূত্র জানায়।
একই সময়ে মরদেহ মর্গে রাখা হলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্বজনরা। তারা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মৃতের বড় ছেলে নুরুজ্জামান রিন্টু অভিযোগ করে বলেন, মায়ের মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় মরদেহ না পেয়ে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে তারা মরদেহ পাননি বলেও দাবি করেন তিনি।
স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার জেরে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মরদেহ হস্তান্তরে বিলম্ব করেন এবং বিভিন্ন শর্ত আরোপ করেন। একপর্যায়ে মৃতের ছোট ছেলে রিফাত হোসেনকে হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকদের সামনে কান ধরে উঠবস করতে বাধ্য করা হয় বলে দাবি করা হয়।
তবে এ বিষয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, সিসিটিভি ফুটেজে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা দেখা গেছে। তিনি বলেন, চিকিৎসকের ওপর হামলা নিন্দনীয় ও অমানবিক। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সিএ/এমই


