মসজিদে কোনো কুকুর প্রবেশ করলে বা বারান্দায় এসে বসলে সংশ্লিষ্ট স্থান অপবিত্র হয়ে যায় কি না—এ প্রশ্ন অনেক মুসল্লির মধ্যেই দেখা যায়। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, এ বিষয়ে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো কুকুরের শরীর নয়, বরং তার লালা বা মলমূত্রের উপস্থিতি।
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, কুকুরের শরীর নিজে নাপাক নয়। তবে কুকুরের লালা, মল ও মূত্র নাপাক হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলে কোনো কুকুর যদি মসজিদের বারান্দা বা অন্য কোনো স্থানে প্রবেশ করে এবং সেখানে তার লালা বা অন্য কোনো নাপাকির চিহ্ন না পাওয়া যায়, তাহলে শুধু শরীর স্পর্শ করার কারণে স্থানটি অপবিত্র হবে না।
আলেমদের মতে, বৃষ্টির পানি বা অন্য কোনো পবিত্র পানিতে ভেজা কুকুরের শরীরও নাপাক হিসেবে গণ্য হয় না। তাই এমন অবস্থায় কোনো কুকুর মসজিদে প্রবেশ করলে আলাদাভাবে স্থান ধোয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
তবে যদি কুকুরের লালা, মল বা মূত্র মসজিদের মেঝে বা অন্য কোনো স্থানে লেগে যায়, তাহলে ওই স্থান অবশ্যই ধুয়ে পবিত্র করতে হবে। এ অবস্থায় স্থানটি পরিষ্কার না করে সেখানে নামাজ আদায় করা যাবে না।
এ বিষয়ে ইসলামে কুকুর পালনের বিধান সম্পর্কেও নির্দেশনা রয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া শুধুমাত্র শখের বশে কুকুর পালন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তবে বাড়ি, ক্ষেত-খামার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পাহারা দেওয়া, শিকার করা কিংবা অপরাধ অনুসন্ধানের মতো প্রয়োজনীয় কাজে কুকুর ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে।
রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি শিকার করা বা গবাদি পশু অথবা শস্যক্ষেত পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর পোষে ওই ব্যক্তির প্রতিদিন দুই কিরাত পরিমাণ নেকি হ্রাস পায়।” (সহিহ মুসলিম: ১৫৭৫)
হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম নববি (রহ.) উল্লেখ করেছেন যে, “কিরাত” একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ যা আল্লাহ তাআলা জানেন। অর্থাৎ বিনা প্রয়োজনে কুকুর পালন করলে মানুষের আমলনামা থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ সওয়াব কমে যেতে পারে।
তবে ইসলামে সব সৃষ্টির প্রতিই দয়া প্রদর্শনের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। কুকুরকে খাবার ও পানি দেওয়া, বিপদে সাহায্য করা কিংবা অযথা কষ্ট না দেওয়া সওয়াবের কাজ হিসেবে বিবেচিত।
এ প্রসঙ্গে একটি বিখ্যাত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, “একবার এক তৃষ্ণার্ত কুকুর কূপের পাশে ঘোরাঘুরি করছিল। তৃষ্ণায় তার প্রাণ বের হওয়ার উপক্রম হয়। বনি ইসরাইলের এক ব্যভিচারী নারী তা দেখতে পেয়ে নিজের পায়ের মোজা খুলে মোজায় পানি ভরে কুকুরটিকে পানি পান করায়। এ কারণে তার আগের সব পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।” (সহিহ বুখারি: ৩৪৬৭)
আলেমরা বলছেন, ইসলাম একদিকে পবিত্রতার বিধান শিক্ষা দেয়, অন্যদিকে আল্লাহর সব সৃষ্টির প্রতি মানবিক আচরণেরও নির্দেশনা দেয়।
সিএ/এমআর


