বিশ্বজুড়ে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে থাকা অবস্থায় আফ্রিকার দেশ অ্যাঙ্গোলা থেকে এসেছে আশাব্যঞ্জক এক খবর। দেশটির লিসিমা মালভূমিতে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক অভিযানে বিজ্ঞানীরা ফড়িং, ঘাসফড়িং, মাকড়সা, প্রজাপতি ও মথের বেশ কয়েকটি নতুন প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিষয়ক সংগঠন ওয়াইল্ডারনেস প্রজেক্টের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে বিশেষজ্ঞরা উজ্জ্বল রঙের আটটি নতুন প্রজাতির ফড়িং, তিনটি অজানা ঘাসফড়িং এবং প্রায় ৬০টি নতুন প্রজাতির প্রজাপতি ও মথ শনাক্ত করেছেন। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল লিসিমা মালভূমির জলাভূমি ও নদী উৎস এলাকার জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করা।
গবেষকদের মতে, লিসিমা মালভূমি আফ্রিকার চারটি গুরুত্বপূর্ণ নদী—কঙ্গো, ওকাভাঙ্গো, জাম্বেজি ও কুয়ানজার অন্যতম উৎস এলাকা। ফলে এ অঞ্চলের পরিবেশগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
নতুন আবিষ্কৃত প্রাণীগুলোর মধ্যে রয়েছে শক্ত খোলসযুক্ত শিকারি ঝিঁঝিঁ পোকা, আগে কখনও নথিভুক্ত না হওয়া তামাটে রঙের শুঁয়োপোকা এবং তার পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতি। এছাড়া একটি বিশেষ মুকুটধারী কাঁকড়া-মাকড়সার সন্ধান পাওয়া গেছে, যা আল্ট্রাভায়োলেট বা ইউভি আলোতে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
গবেষকরা আরও একটি নতুন প্রজাতির লেডিবার্ড অর্ব-ওয়েব মাকড়সা শনাক্ত করেছেন। গাঢ় কমলা-লাল রঙের এই মাকড়সাটি শিকারিদের বিভ্রান্ত করতে লেডিবার্ড পোকার মতো রূপ ধারণ করে। এর উজ্জ্বল রং সম্ভাব্য শিকারিদের সতর্ক সংকেত দেয় যে প্রাণীটি তেতো বা বিষাক্ত হতে পারে।
অভিযান দলের প্রধান রব টেইলর বলেছেন, “বর্মধারী ঝিঁঝিঁ পোকাগুলো দারুণ… তবে দেখতে বেশ হিংস্র। আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে এরা আক্রমণকারীর গায়ে এক ধরনের তরল পদার্থ ছিটিয়ে দিতে পারে।”
বিশ্বব্যাপী জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন প্রজাতি শনাক্ত ও নথিভুক্ত করার কাজ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবীতে প্রায় ৮৭ লাখ প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৫ লাখের মতো প্রজাতি বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে বহু প্রজাতি দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫০০ সালের পর থেকে বিশ্বের আটশটিরও বেশি প্রাণী প্রজাতি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
রব টেইলর সতর্ক করে বলেছেন, লিসিমা মালভূমির পরিবেশও নানা হুমকির মুখে রয়েছে। বন উজাড়, গাছ কাটা, প্রচলিত পদ্ধতিতে হীরার খনি পরিচালনা এবং পোড়ো চাষ বা জুম চাষের মতো কার্যক্রম এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
গবেষকদের মতে, নতুন প্রজাতির এই আবিষ্কার শুধু বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, বরং সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে নিয়ে এসেছে।
সিএ/এমআর


