কণাপদার্থবিজ্ঞানের মতো জটিল বিষয়ে গবেষণা করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশের পাঁচ কলেজশিক্ষার্থী। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান সার্ন আয়োজিত ‘বিমলাইন ফর স্কুল’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে তারা জার্মানির গবেষণাগার পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন।
বিজয়ী দলটির নাম ‘পোলারিস’। সদস্যরা হলেন চৌমুহনী সরকারি সালেহ আহমেদ কলেজের সালমান আলম, আবদুল রহিম ও এস এম তাওসিফ, রংপুর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নাজিয়া তিতিম এবং ঢাকার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের নাজিফা তাসনিম। তাঁদের কোচ ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. নিশাদ আহমেদ।
প্রতিবছর সার্ন ‘বিমলাইন ফর স্কুল’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে, যেখানে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা কণাপদার্থবিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা প্রস্তাব জমা দেয়। এ বছর বিশ্বের ৮৯টি দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয় এবং জমা পড়ে ৭১২টি গবেষণা প্রস্তাব।
দলটির গবেষণার মূল বিষয় ছিল রেডিওথেরাপিতে ব্যবহৃত সিন্টিলেটর উপাদানের উন্নয়ন। বর্তমানে ব্যবহৃত পলিভিনাইল টলুইনভিত্তিক উপাদানের পরিবর্তে পলিসিলোক্সেনভিত্তিক একটি নতুন উপাদানের ধারণা উপস্থাপন করেছে তারা। তাদের দাবি, এই উপাদান বাস্তবায়ন করা গেলে রেডিওথেরাপি শিল্পে ব্যয় কমবে এবং কার্যকারিতা বাড়বে।
গবেষণার পুরো যাত্রা সহজ ছিল না। দলের কয়েকজন সদস্যের নিজস্ব কম্পিউটারও ছিল না। কেউ স্মার্টফোন ব্যবহার করে, আবার কেউ খাতা-কলমে হিসাব করে গবেষণার কাজ এগিয়ে নিয়েছেন। পরবর্তীতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়।
আগামী আগস্টে জার্মানির ইএলএসএ গবেষণাগারে ১৪ দিনের গবেষণা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন এই শিক্ষার্থীরা। ভ্রমণ ও গবেষণার ব্যয় বহন করবে আয়োজক প্রতিষ্ঠান। তবে দলের অধিকাংশ সদস্য উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী হওয়ায় ব্যবহারিক পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া জার্মানির পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের সার্ন গবেষণাগার পরিদর্শনের ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেটি এখনো অনিশ্চিত রয়েছে। দলটির জন্য স্পনসর খোঁজার চেষ্টা চলছে।
সিএ/এমআর


