সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গুর প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে ৩ লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালেও আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যায় এবং পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটে। ২০২৫ সালেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় রোগটি সারা বছরব্যাপী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও গিঁটে যন্ত্রণা, বমি এবং ত্বকে লালচে দাগ এর সাধারণ উপসর্গ। তবে দ্রুত চিকিৎসা না নিলে রোগটি ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে রূপ নিয়ে প্রাণঘাতী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হলো প্রতিরোধ। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মশারি ব্যবহার, মশা প্রতিরোধক ব্যবহার এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, তরল খাবার গ্রহণ এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা নয়, রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা, রক্তচাপ ও অন্যান্য সতর্কতামূলক লক্ষণের ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অনেক মানুষ এখনো জ্বরকে সাধারণ অসুস্থতা ভেবে অবহেলা করেন। ফলে রোগ জটিল হয়ে যাওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত না হওয়ায় রোগীরা বিভ্রান্ত হন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি করেন।
তাদের মতে, ডেঙ্গু মোকাবিলা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়। নাগরিক, পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
একটি মশা যেমন একটি পরিবারকে শোকের অন্ধকারে ভাসিয়ে দিতে পারে, তেমনি একটি সচেতন পরিবার একটি মহল্লাকে নিরাপদ রাখতে পারে।
সিএ/এমআর


