দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে ঐতিহ্যবাহী ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘বোফোর্ট দুর্গ’ দখলের দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। রবিবার (৩১ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
রয়টার্সের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, প্রায় ৯০০ বছরের পুরনো এই দুর্গ এবং এর আশপাশের কৌশলগত শৈলশিরা তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ছয় সপ্তাহেরও বেশি আগে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বোফোর্ট দুর্গটি দক্ষিণ লেবাননের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। পাহাড়ি উঁচু অবস্থানে থাকা এই দুর্গ দীর্ঘদিন ধরে সামরিক কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল বোফোর্ট দুর্গ এবং আল-সালুকি এলাকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো দুর্বল করাও এ অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল বলে জানানো হয়।
চলমান সংঘর্ষের মধ্যে এ অভিযানে এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। তবে লেবানন বা হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ঐতিহাসিক এই দুর্গ দখলের ঘটনা শুধু সামরিক নয়, প্রতীকী দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে একে দেখা হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বেড়েছে। এর আগে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়, যার জেরে ইসরায়েলও পাল্টা অভিযান জোরদার করে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং বেসামরিক জীবনে এর প্রভাব পড়ছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে চলমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর উত্তেজনার অংশ হিসেবে আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে।
সিএ/এমই


