স্মার্টফোনের সহজলভ্যতার কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রিলস বা শর্ট ভিডিও দেখার প্রবণতা বেড়েছে। এই স্বল্পদৈর্ঘ্য কনটেন্টগুলো দ্রুত মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করলেও এর নেতিবাচক প্রভাবও কম নয়।
একটির পর একটি ভিডিও দেখার প্রবণতায় অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়, যা সময় অপচয়ের বড় কারণ। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হওয়া ছাড়াও এটি মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।
ইবাদতের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব দেখা যায়। সময়জ্ঞান হারিয়ে অনেকেই নিয়মিত নামাজ বা ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে পিছিয়ে পড়েন। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নবী ও হেদায়েতপ্রাপ্তদের পর এলো এমন এক অপদার্থ বংশধর, যারা নামাজ বিনষ্ট করল এবং প্রবৃত্তির পূজারি হলো। সুতরাং তারা জাহান্নামের শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে। তবে যারা এরপর তওবা করে নিয়েছে, ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে তারাই তো জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি কোনো ধরনের জুলুম করা হবে না।’ -সূরা মারইয়াম: ৫৯-৬০
রিলসের দ্রুত পরিবর্তনশীল কনটেন্ট মনোযোগ কমিয়ে দেয়। এতে পড়াশোনা ও কাজের দক্ষতা কমে যায়। পাশাপাশি অন্যের জীবন দেখে নিজের জীবনের প্রতি অসন্তোষ তৈরি হতে পারে, যা মানসিক চাপ ও বিষণ্নতার কারণ।
রাতে ঘুমানোর আগে স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে অনিদ্রা দেখা দিতে পারে। এছাড়া পরিবার ও সামাজিক সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়, কারণ মানুষ বাস্তব যোগাযোগের চেয়ে ভার্চুয়াল জগতে বেশি সময় ব্যয় করে।
সুতরাং, সচেতনভাবে ব্যবহার না করলে রিলস আসক্তি জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সিএ/এমআর


