রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) ভবনে দরপত্র জমা দেওয়ার বাক্স ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় যুবদলের দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সংগঠনটি। তাঁদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীর উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশপ্রাপ্ত দুই নেতা হলেন নগরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড (দক্ষিণ) যুবদলের আহ্বায়ক মো. ধলু এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল ইসলাম।
মহানগর যুবদলের সদস্য (দপ্তরে সংযুক্ত) মাসুদুল হক মৃধা মোমিন স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, আরডিএ ভবনে টেন্ডার বাক্স–সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা সংগঠনের নজরে আসে। ঘটনাটি সংগঠনের ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত দুই নেতাকে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি এবং সদস্যসচিব রফিকুল ইসলামের রবি কাছে সশরীর উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। অন্যথায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম বলেন, দলের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যায় করলে কাউকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দুইজনকে শনাক্ত করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আরডিএ ভবনে পুলিশের উপস্থিতিতে দরপত্র জমা দেওয়ার বাক্স ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। কিছু সময় পর একই ভবনের চারতলা থেকে বাক্সটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় ভবনের সামনে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল হঠাৎ ভবনে প্রবেশ করে বাক্সটি নিয়ে যায়। পরে কিছু সময়ের মধ্যে সেটি আবার ভবনের চারতলায় রেখে তারা চলে যায়।
আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামান বলেন, দরপত্র বাক্সটি পুলিশের নিরাপত্তার মধ্যেই ছিল। কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি এসে সেটি জোর করে নিয়ে যায়, পরে আবার রেখে চলে যায়।
আরডিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) মশিউর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। সংগঠনগুলো বলছে, কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগরের শাহমখদুম থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এমই


