সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব এবং সীমিত সম্পদের কারণে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে সরকার বলে মন্তব্য করেছেন আরলা ফুড বাংলাদেশের হেড অব করপোরেট আনোয়ারুল আমিন।
সোমবার (৪ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় কালের কণ্ঠের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অবৈধ পণ্যের দৌরাত্ম্য, ব্যবসায়ীদের সংকট ও করণীয় বিষয়ক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আনোয়ারুল আমিন বলেন, কাস্টমসে প্রয়োজনীয় জনবল ও সম্পদের ঘাটতির কারণে রাজস্ব আদায়ে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। আমদানি পর্যায়ে সঠিক কাগজপত্র না থাকায় আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মতো অনিয়ম ঘটছে, যার ফলে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কাস্টমস কার্যক্রম যেখানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শেষ করা সম্ভব, সেখানে প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে ৩ থেকে ৪ দিন সময় লেগে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে রাজস্ব ফাঁকি ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, একটি পণ্য ছাড় করতে একাধিক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হয়, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও জটিল ও সময়সাপেক্ষ করে তুলছে।
আনোয়ারুল আমিন বলেন, নজরদারির ঘাটতির কারণে বাজারে অবৈধ ও নকল পণ্য প্রবেশ করছে। সরকার ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষকে এ বিষয়ে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। পণ্যের লেবেলিং ও মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে নামিদামি ব্র্যান্ডের নামে নকল পণ্য বাজারে আসছে, যেখানে বিদেশি সস্তা পণ্যকে স্থানীয়ভাবে ব্র্যান্ডিং করে বিক্রি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
রাজস্ব ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকায় তিনি এ বিষয়ে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সিএ/এমই


