ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দ্রুত পরিবর্তনশীল চ্যালেঞ্জ শুধু রাষ্ট্র বা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
রবিবার (৩ মে) বিকেল ৩টায় রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ উপলক্ষে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই শুধু রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সমন্বিত ও সমাধানমুখী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সরকার ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে কাজ করতে চায় এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে নিয়ে একটি সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিক, সম্পাদক ও মিডিয়া মালিকদের সক্রিয় ভূমিকার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
ডিজিটাল নিরাপত্তা ও তথ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এ খাতে একটি আইন বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশীয় আইন, আন্তর্জাতিক নীতিমালা এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নিয়মকানুন বিবেচনায় নিয়ে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পরিণত হয়েছে। তবে এ খাতে এখনো পর্যাপ্ত দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, অনেক সময় তথ্যভিত্তিক সংবাদ না হয়ে অনুমান বা মতামতের ওপর ভিত্তি করে সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই গণমাধ্যমের ভেতর নৈতিকতা ও মানদণ্ড জোরদার করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের মূল লক্ষ্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। তবে একই সঙ্গে সাংবাদিকতার ভেতরের সীমাবদ্ধতা নিয়েও আত্মসমালোচনা প্রয়োজন।
নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, বিশ্বজুড়ে অপতথ্য ও ভুয়া খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা সামাজিক বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় শুধু আইন নয়, সামাজিক সচেতনতাও জরুরি।
ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, যেসব দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম শক্তিশালী, সেখানে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারও তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী থাকে। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে অপতথ্য, বুলিং ও সাইবার অপরাধ বাড়ছে। এটি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
আলোচনায় দেশের বিভিন্ন শীর্ষ সম্পাদক, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম মালিকরা অংশ নেন। বক্তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং তথ্যপ্রবাহের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সিএ/এমই


