বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জানিয়েছে, হাওর অঞ্চলের ফসলহানি দেশের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে সংগঠনটি ১৬ দফা সুপারিশ উপস্থাপন করেছে।
রবিবার (৩ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘হাওর অঞ্চলে চলমান বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ফসলহানি, দুর্যোগ পরিস্থিতি এবং হাওরবাসীর দাবি’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
বাপার পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি, যাতে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব না হয়। সংগঠনটি মনে করে, হাওরের কৃষি উৎপাদন জাতীয় খাদ্য চাহিদার বড় অংশ পূরণ করে, তাই ফসলহানি সার্বিকভাবে খাদ্যনিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে।
লিখিত বক্তব্যে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি অধ্যাপক কাসমির রেজা বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ আসে হাওর অঞ্চল থেকে। সাম্প্রতিক বোরো মৌসুমে বৃষ্টিপাত ও ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ৭৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। শিলাবৃষ্টিতে আরও প্রায় ৮০০ হেক্টর ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি জানান।
বাপা সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, প্রতি বছর হাওরে বড় ধরনের ফসলহানি হলেও কার্যকর সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও বন্যা নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি, যা নীতিনির্ধারণী দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, হাওর এলাকায় স্লুইস গেট নির্মাণের পরিবর্তে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা, বিজ্ঞানভিত্তিক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ এবং অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করা জরুরি।
গবেষক গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা যেন নিরপেক্ষভাবে তৈরি করা হয়। একই সঙ্গে ফসলহানির কারণে সামাজিক সংকট, বাল্যবিবাহ ও শিক্ষা ঝরে পড়ার মতো সমস্যাও বাড়ছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
বাপার কোষাধ্যক্ষ আমিনুর রসুল জানান, হাওরাঞ্চলে গবাদি পশু পালনেও বড় ক্ষতি হচ্ছে। পানিবদ্ধতার কারণে কৃষকরা কম দামে পশু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংগঠনটির ১৬ দফা সুপারিশের মধ্যে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য মাসিক সহায়তা প্রদান, নদী-খাল খনন, জলাবদ্ধতা নিরসন, ফসল রক্ষা বাঁধে অনিয়ম বন্ধ, কৃষি ঋণ সহজীকরণ, বজ্রপাত প্রতিরোধ ব্যবস্থা, জলমহাল নীতিমালা সংস্কার এবং জলবায়ু তহবিল থেকে হাওর অঞ্চলে বরাদ্দ বৃদ্ধি।
সিএ/এমই


