কর্মীদের কম্পিউটার ব্যবহারের ধরন পর্যবেক্ষণ করে সেই তথ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল প্রশিক্ষণে কাজে লাগানোর নতুন উদ্যোগ নিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা। এই উদ্যোগের আওতায় কর্মীদের কিস্ট্রোক, মাউস ক্লিকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হবে।
মঙ্গলবার কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় মেটা জানায়, তাদের ব্যবহৃত কম্পিউটার ও নিজস্ব অ্যাপ্লিকেশনগুলোতে একটি বিশেষ ট্র্যাকিং টুল চালু করা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই টুলটির নাম মডেল ক্যাপাবিলিটি ইনিশিয়েটিভ বা এমসিআই। আগে থেকেই কর্মীদের কম্পিউটার ব্যবহারের কিছু তথ্য প্রতিষ্ঠানের নাগালে থাকলেও এআই প্রশিক্ষণের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে আলাদাভাবে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের উদ্যোগ এবারই প্রথম।
বিবিসিকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় মেটার এক মুখপাত্র বলেন, মানুষ কীভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করে, সেই অভিজ্ঞতাই আমাদের মডেল উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও জানান, সংগৃহীত তথ্য অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে না এবং সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মী বলেন, ক্ষুদ্রতম কাজ পর্যন্ত নজরদারির আওতায় আনা এবং তা এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার পরিস্থিতিটিকে অস্বস্তিকর করে তুলছে। এটি একধরনের ভীতিকর বাস্তবতা। একজন সাবেক কর্মী বলেন, কোম্পানিটি এখন পুরোপুরি এআইকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। এই ট্র্যাকিং ব্যবস্থা সেই প্রবণতারই আরেকটি উদাহরণ।
এই ঘোষণার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিতে চলছে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই। চলতি বছর ধাপে ধাপে প্রায় দুই হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে মেটা। গত মাসে আংশিক নিয়োগ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়, যা পরে আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্চে মেটার ওয়েবসাইটে প্রায় ৮০০টি পদ খালি থাকলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ৭টিতে।
মেটার সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ ২০২৬ সালে এআই খাতে প্রায় ১৪ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ২০২৫ সালে তথ্য লেবেলিং প্রতিষ্ঠান স্কেল এআইয়ে প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছে মেটা। নতুনভাবে গঠিত মেটা সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস থেকে সম্প্রতি মিউজ স্পার্ক নামের একটি এআই মডেলও উন্মোচন করা হয়েছে। জাকারবার্গের মতে, ২০২৬ সাল হবে এমন একটি সময়, যখন এআই কাজের ধরনে বড় পরিবর্তন আনবে।
সূত্র: বিবিসি
সিএ/এমআর


