সন্তানের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে মা ও বাবার জিন সমানভাবে ভূমিকা রাখলেও কিছু নির্দিষ্ট গুণাবলি বাবার জিনের মাধ্যমে বেশি প্রভাবিত হয় বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন ছয়টি বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে, যা সন্তানের মধ্যে বাবার দিক থেকে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
উচ্চতা নির্ধারণে উভয় অভিভাবকের জিন গুরুত্বপূর্ণ হলেও গবেষণায় দেখা গেছে, বাবার জিনে থাকা বিশেষ বৃদ্ধিদায়ক উপাদান সন্তানের উচ্চতায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। একইভাবে সন্তানের জৈবিক লিঙ্গ নির্ধারণ পুরোপুরি বাবার ক্রোমোজোমের ওপর নির্ভর করে। মায়ের ডিম্বাণু সব সময় X ক্রোমোজোম বহন করলেও বাবার শুক্রাণু X বা Y—দুই ধরনের হতে পারে, যা সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করে।
বাবার বয়স ও জিনগত বৈশিষ্ট্য সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বেশি বয়সে পিতা হলে কিছু মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে, যদিও এটি একমাত্র নির্ধারক নয়। ছেলেশিশুর ক্ষেত্রে বাবার কাছ থেকে পাওয়া Y ক্রোমোজোমের মাধ্যমে কিছু নির্দিষ্ট জিনগত বৈশিষ্ট্য ও বিরল রোগের সম্ভাবনাও যুক্ত থাকে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ব্যক্তিত্বের কিছু দিক—যেমন আচরণ, সাহসিকতা বা নতুন কিছু চেষ্টা করার প্রবণতা—বাবার জিনের মাধ্যমে প্রভাবিত হতে পারে। এছাড়া শরীরে চর্বি জমার ধরন বা ফ্যাট স্টোরেজের ক্ষেত্রেও বাবার জিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জিনগত প্রভাবের পাশাপাশি পারিবারিক পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা সন্তানের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সিএ/এমআর


