পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি কীভাবে—এই দীর্ঘদিনের প্রশ্নের উত্তর খোঁজায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। জাপানের নেতৃত্বে পরিচালিত এক মহাকাশ গবেষণায় রিউগু নামের একটি প্রাচীন গ্রহাণু থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় ডিএনএ ও আরএনএ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় পাঁচটি প্রধান উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণাটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে—জীবনের মৌলিক উপাদান সৌরজগতজুড়ে ছড়িয়ে থাকতে পারে।
ডিএনএ ও আরএনএ তৈরির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে পাঁচটি নাইট্রোজেন বেস—অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন, থায়ামিন ও ইউরাসিল। জাপানের মহাকাশ সংস্থা জাক্সার হায়াবুসা-২ মিশনের মাধ্যমে রিউগু গ্রহাণু থেকে সংগৃহীত ধুলা ও পাথরের নমুনায় প্রথমবারের মতো এই পাঁচটি উপাদানের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। গবেষক তোশিকি কোগা জানিয়েছেন, এই আবিষ্কার সরাসরি প্রাণের অস্তিত্ব প্রমাণ করে না, তবে এটি দেখায় যে আদিম গ্রহাণু জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় অণু তৈরি ও সংরক্ষণে সক্ষম ছিল।
২০১৪ সালে হায়াবুসা-২ মহাকাশযাত্রা শুরু করে এবং ২০১৯ সালে রিউগুর পৃষ্ঠ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে। ২০২০ সালে পৃথিবীতে ফিরে আসা এই মিশনে মোট ৫.৪ গ্রাম উপাদান সংগ্রহ করা হয়, যার একটি ক্ষুদ্র অংশ পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয়েছে। নমুনা সরাসরি মহাকাশ থেকে সিল করা অবস্থায় আনা হওয়ায় এতে পৃথিবীর কোনো দূষণ মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই, ফলে গবেষণার ফলাফলকে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীতে প্রাণের উৎস নিয়ে দুটি প্রধান ধারণা রয়েছে—একটি মতে, সাগরের তলদেশের আগ্নেয় পরিবেশে প্রাণের সূচনা হয়েছে, অন্য মতে মহাকাশ থেকে ধূমকেতু বা গ্রহাণুর মাধ্যমে জীবনের উপাদান এসেছে। রিউগু ও অন্যান্য গ্রহাণুর নমুনা বিশ্লেষণ থেকে ধারণা মিলছে, জীবনের রাসায়নিক উপাদান মহাকাশেই প্রাকৃতিকভাবে গঠিত হতে পারে।
এছাড়া গবেষণায় অ্যামোনিয়ার সঙ্গে এই উপাদানগুলোর একটি বিশেষ সম্পর্কও শনাক্ত হয়েছে, যা সৌরজগতের প্রাথমিক রাসায়নিক বিবর্তন সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, কার্বনসমৃদ্ধ গ্রহাণুর আধিক্য ইঙ্গিত করে যে মহাকাশে জীবন গঠনের উপাদান ব্যাপকভাবে বিদ্যমান।
সিএ/এমআর


