হঠাৎ মন খারাপ হওয়া, অকারণে বিরক্তি বা কিছুক্ষণ পরই স্বাভাবিক হওয়া—অনেকেই এটাকে মুড সুইং বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ওঠানামার পেছনে শুধু মানসিক চাপ নয়, শারীরিক একটি কারণও থাকতে পারে।
গলার সামনের দিকে থাকা থায়রয়েড গ্রন্থি শরীরের হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে। হরমোনের সামান্য ভারসাম্যহীনতাও শরীর ও মনের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
থায়রয়েড হরমোন মূলত শরীরের মেটাবলিজম বা শক্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এটি মস্তিষ্কের কার্যক্রম, আবেগ এবং ঘুমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। হরমোনের মাত্রা বেশি বা কম হলে শরীর ও মানসিক অবস্থায় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। কেউ অকারণে অস্থির, বিরক্ত বা বিষণ্ণ বোধ করতে পারেন।
হাইপারথাইরয়েডিজমে (হরমোন বেশি হলে) শরীর অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে যায়। লক্ষণ হতে পারে হঠাৎ রাগ, অযথা দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ঘুম কমে যাওয়া, ওজন দ্রুত কমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত ঘাম। অনেক সময় এটি শুধু অ্যাংজাইটি বলে ভুল বোঝা হয়।
হাইপোথাইরয়েডিজমে (হরমোন কম হলে) শরীরের গতি ধীর হয়ে যায়। লক্ষণগুলো হতে পারে মন খারাপ বা বিষণ্ণতা, ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি, ওজন বেড়ে যাওয়া এবং ঠান্ডা বেশি লাগা। এটি অনেক সময় ডিপ্রেশনের সঙ্গে মিলিয়ে ভুল করা হয়।
যদি মুড বারবার অকারণে পরিবর্তিত হয়, সঙ্গে শারীরিক লক্ষণ দেখা দেয় এবং সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলে, তাহলে শুধুমাত্র মানসিক কারণে নয়, শারীরিক কারণও খতিয়ে দেখা জরুরি।
প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা (থায়রয়েড ফাংশন টেস্ট) করানো যেতে পারে, যা হরমোনের মাত্রা নির্ধারণে সাহায্য করবে। সঠিক সময়ে রোগ ধরা পড়লে ওষুধ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য এবং স্ট্রেস কমানোও গুরুত্বপূর্ণ।
মেজাজের হঠাৎ পরিবর্তন সবসময়ই শুধু আবেগের বিষয় নয়—শরীরের ছোট একটি গ্রন্থিও এর জন্য দায়ী হতে পারে। তাই লক্ষণগুলোকে অবহেলা না করে সময়মতো কারণ খুঁজে বের করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সিএ/এমআর


