পৃথিবীর বয়স কত? এটি দীর্ঘদিন ধরেই মানুষ ও বিজ্ঞানীদের মনে জাগানো একটি প্রশ্ন। প্রাচীন যুগে বিজ্ঞানী-দার্শনিকরা এই বিষয়ে বিভক্ত ছিলেন। কেউ বলতেন পৃথিবী অনন্ত ও আদি, কোনো সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই। অন্যরা মনে করতেন পৃথিবী একটি নির্দিষ্ট সময়ে সৃষ্টি হয়েছে এবং একসময় ধ্বংসও হবে। বিংশ শতাব্দীতে নিউক্লিয়ার ফিজিকস এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয় ধর্ম ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪৫০ কোটি থেকে ৫০০ কোটি বছর হিসাব করেছেন।
প্রাথমিকভাবে সূর্যের জন্মের পর মহাজাগতিক পদার্থ থেকে সৌরজগতের সব গ্রহ-নক্ষত্র, উপগ্রহ ও পৃথিবী জন্ম নেয়। জন্মের সময় পৃথিবী ছিল একটি জ্বলন্ত অগ্নিগোলক, যা কালের বিবর্তনে কঠিন শিলাপাথরে পরিণত হয়। ভূত্বক ও পাহাড়-পর্বতের মধ্যে প্রাচীন শিলার ভেতরে মিলেছে ইউরেনিয়ামের আকরিক। পরীক্ষায় দেখা গেছে, ইউরেনিয়ামের পরিমাণ ও সিসার পরিমাণ সমান, যা প্রমাণ করে ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের ফলেই সিসা তৈরি হয়েছে।
ইউরেনিয়ামের অর্ধায়ু ৪৫০ কোটি বছর। অর্থাৎ, এক খণ্ড বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম অর্ধেক ক্ষয়ে সিসায় পরিণত হয়। প্রতি সেকেন্ডে তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণের হার হিসাব করে বিজ্ঞানীরা এই অর্ধায়ুর হিসাব নির্ণয় করতে পারেন। ফলে দেখা গেছে, পৃথিবীর প্রাচীনতম শিলা ও আকরিক প্রায় ৪৫০ কোটি বছর পুরনো। সূর্যের আলোর বিশ্লেষণ এবং নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার তথ্যের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা ধারণা দিয়েছেন, পৃথিবীর বয়স ৪৫০ কোটি বছরের বেশি, কিন্তু ৫০০ কোটি বছরের কম।
পুরোনো ফসিল, মৃত প্রাণীর দেহ বা কাঠের নিদর্শনও তেজস্ক্রিয় মৌলের সাহায্যে বয়স নির্ণয় করা হয়। কার্বন ১৪-এর তেজস্ক্রিয়তা ব্যবহার করে এই তথ্য পাওয়া যায়। কসমিক রশ্মি বায়ুমন্ডলে নিউট্রন তৈরি করে, যা নাইট্রোজেনকে ভেঙে কার্বন ১৪ তৈরি করে। উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহে এটি প্রবেশ করে এবং মৃত্যুর পর তার অনুপাতের ভিত্তিতে বয়স নির্ণয় করা যায়। কার্বন ১৪-এর অর্ধায়ু ৫,৭৬০ বছর। গবেষণার মাধ্যমে সহজেই নির্ধারণ করা যায়, মৃতদেহ বা ফসিল কত বছর আগে জীবিত ছিল।
সূত্র: নেচার
সিএ/এমআর


