ঘর গোছানো ও পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে জাপানের শিল্পখাত থেকে আসা ফাইভ এস পদ্ধতি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। মূলত টয়োটা মোটর কোম্পানির উৎপাদন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এই পদ্ধতির উদ্ভব হলেও পরে এটি বিভিন্ন খাতে এবং ব্যক্তিগত জীবনেও কার্যকর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ফাইভ এস শব্দটি এসেছে পাঁচটি জাপানি শব্দ থেকে—সেইরি, সেইতন, সেইসো, সেইকেৎসু ও শিৎসুকে। ইংরেজিতে এগুলোকে বলা হয় সর্ট, সেট ইন অর্ডার, শাইন, স্ট্যান্ডার্ডাইজ ও সাসটেইন। এই পাঁচটি ধাপ অনুসরণ করলে ঘর গোছানো সহজ ও কার্যকর হয়।
প্রথম ধাপ হলো বাছাই। এ পর্যায়ে ঘরের সব জিনিসের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হয়। কোন জিনিস কতটা দরকার, শেষ কবে ব্যবহার হয়েছে—এসব বিবেচনা করে অপ্রয়োজনীয় জিনিস আলাদা করা হয়।
দ্বিতীয় ধাপে জিনিসগুলো সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হয়। কে কোন জিনিস ব্যবহার করে, কোথায় রাখলে সহজে পাওয়া যাবে—এসব চিন্তা করে সাজানোর কাজ করা হয়।
তৃতীয় ধাপে গুরুত্ব দেওয়া হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর। নিয়মিত পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে ঘরকে ঝকঝকে রাখা হয় এবং পরিষ্কারের কাজ সহজ করার দিকেও নজর দেওয়া হয়।
চতুর্থ ধাপে আগের তিনটি ধাপকে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে পরিণত করা হয়। অর্থাৎ দৈনন্দিন জীবনে এগুলোকে অভ্যাস হিসেবে গড়ে তোলা হয়। এজন্য একটি চেকলিস্ট তৈরি করা যেতে পারে।
পঞ্চম ধাপে এই অভ্যাসকে ধরে রাখা বা ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়। পরিবারের সবাই এতে অংশ নিলে এটি একটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়।
এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ঘরের অপ্রয়োজনীয় জিনিস সহজেই আলাদা করা যায়। ফলে প্রয়োজনীয় জিনিস গোছানো সহজ হয় এবং অপচয় কমে। একই সঙ্গে ঘর থাকে পরিষ্কার ও পরিপাটি।
এছাড়া পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করলে পারিবারিক বন্ধনও দৃঢ় হয়। শিশুদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ গড়ে ওঠে এবং তারা ছোটবেলা থেকেই গুছিয়ে থাকার অভ্যাস শেখে।
সিএ/এমআর


