মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন নতুন কল্পনা ও পরিকল্পনা সামনে আনছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা। পৃথিবীর গণ্ডি পেরিয়ে অন্য গ্রহে স্থায়ী বসতি গড়ার স্বপ্ন এখন আর শুধু কল্পকাহিনি নয়, বরং বাস্তব সম্ভাবনার আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে প্রশ্ন হলো, মহাকাশে বসতি গড়ার পাশাপাশি সেখানে মানবজাতির বংশবৃদ্ধি কি আদৌ সম্ভব?
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিষয়টি এত সহজ নয়। মহাকাশে রকেট পাঠানো যতটা প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ, তার চেয়ে অনেক জটিল মানুষের স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়া সেখানে কার্যকর রাখা। সায়েন্স ফিকশনে মহাকাশযানে জন্ম নেওয়ার দৃশ্য দেখা গেলেও বাস্তব গবেষণা এ বিষয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার কথা বলছে।
অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ইউনিভার্সিটির একদল গবেষকের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোগ্র্যাভিটির পরিবেশে মানুষের শুক্রাণু স্বাভাবিকভাবে ডিম্বাণুর দিকে অগ্রসর হতে পারে না। ফলে নিষেকের সম্ভাবনা কমে যায় এবং ভ্রূণ তৈরি হলেও তার বিকাশ হয় দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ।
গবেষণার প্রধান নিকোল ম্যাকফারসন জানিয়েছেন, মহাকাশে দীর্ঘমেয়াদি বসতি স্থাপন করতে হলে সেখানেই প্রজননের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু বর্তমান গবেষণা বলছে, মাধ্যাকর্ষণের অভাব এই প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে।
এই গবেষণার জন্য একটি বিশেষ থ্রিডি ক্লিনোস্ট্যাট যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, যা কৃত্রিমভাবে মাইক্রোগ্র্যাভিটির পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এতে মানুষের পাশাপাশি অন্যান্য প্রাণীর শুক্রাণু ও ডিম্বাণু নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়। ফলাফলে দেখা যায়, স্বাভাবিক পরিবেশের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম শুক্রাণু ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা জানান, শুক্রাণু সাধারণত রাসায়নিক সংকেতের পাশাপাশি মাধ্যাকর্ষণের সহায়তায় নিজের পথ নির্ধারণ করে। কিন্তু মহাকাশে এই দিকনির্দেশনা না থাকায় তারা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। ফলে নিষেকের সম্ভাবনা আরও কমে যায়।
এছাড়া যে ভ্রূণগুলো তৈরি হয়, সেগুলোর গুণগত মান সময়ের সঙ্গে দ্রুত কমতে থাকে এবং স্বাভাবিক পরিবেশে তৈরি ভ্রূণের তুলনায় তাদের বিকাশ অনেক পিছিয়ে পড়ে।
সব মিলিয়ে গবেষণা বলছে, মহাকাশে মানব বসতি স্থাপন শুধু প্রযুক্তিগত নয়, বরং জীববিজ্ঞানের দিক থেকেও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বর্তমান অবস্থায় মহাকাশে স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্ম দেওয়া অত্যন্ত কঠিন, এমনকি অসম্ভবও হতে পারে।
সিএ/এমআর


