ইসলামের শিক্ষায় দান ও আত্মমর্যাদার গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হাকিম ইবনে হিজাম (রা.) একাধিকবার সম্পদ চাইলে মহানবী (সা.) তাকে দান করেন এবং বলেন, সম্পদ আকর্ষণীয় হলেও তা লোভ ছাড়া গ্রহণ করলে বরকত হয়, আর লোভ নিয়ে গ্রহণ করলে তাতে বরকত থাকে না।
তিনি আরও বলেন, ওপরের হাত অর্থাৎ দানকারীর হাত নিচের হাত বা গ্রহণকারীর হাতের চেয়ে উত্তম। এই শিক্ষার মাধ্যমে আত্মনির্ভরতা ও দানের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
হাকিম (রা.) এই উপদেশ শোনার পর দৃঢ় সংকল্প করেন যে, তিনি আর কারও কাছে কিছু চাইবেন না। পরবর্তীতে খলিফা আবু বকর (রা.) ও ওমর (রা.) তাকে সম্পদ দিতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করেননি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।
এই হাদিস থেকে আত্মসম্মান বজায় রাখা, দুনিয়ার মোহ থেকে দূরে থাকা এবং বৈধ পথে উপার্জনের গুরুত্ব বোঝা যায়। ইসলাম মানুষকে পরিশ্রম করে জীবিকা অর্জন করতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দান করতে উৎসাহিত করে।
একই সঙ্গে সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারণ, লোভ মানুষকে অসন্তুষ্ট করে তোলে, আর পরিশ্রমে অর্জিত সম্পদে বরকত আসে।
সিএ/এমআর


