আরবি বর্ষপঞ্জির দশম মাস শাওয়াল, যা রমজানের পর মুমিনদের জন্য নতুন এক ইবাদতের দিগন্ত উন্মোচন করে। এই মাস থেকেই হজের প্রস্তুতির সময় শুরু হয় এবং মুমিনদের হৃদয়ে পবিত্র মক্কায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়।
ইসলামের ইতিহাসে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মাধ্যমে হজের যে আহ্বান বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, শাওয়াল এলেই সেই আহ্বান নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রতি বছর লাখো মুসলিম এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বায়তুল্লাহর উদ্দেশে রওনা হন।
হজ ইসলামের অন্যতম প্রধান ফরজ ইবাদত। শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ মাসের নির্দিষ্ট সময়জুড়ে এই ইবাদত পালিত হয়। তাই শাওয়াল মাস শুরু মানেই হজের প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক সূচনা।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “আর তোমরা পাথেয় সংগ্রহ করো। নিশ্চয় সবচেয়ে উত্তম পাথেয় হচ্ছে তাকওয়া। হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ! তোমরা আমারই তাকওয়া অবলম্বন করো।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৯৭)
এই মাসে মানসিক, শারীরিক ও আর্থিক প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হজে যাওয়ার সামর্থ্য থাকলে দেরি না করে প্রস্তুতি শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইতিহাসে দেখা যায়, নবীজি (সা.) শাওয়াল মাসেই বিদায় হজের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন।
হজ ফরজ হওয়ার জন্য প্রয়োজন আর্থিক সামর্থ্য, শারীরিক সক্ষমতা এবং পরিবারের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা। নারীদের ক্ষেত্রে মাহরাম থাকা আবশ্যক।
শাওয়াল মাস মুমিনদের জন্য শুধু প্রস্তুতির সময় নয়, বরং সারা বছর ইবাদতে স্থির থাকার একটি নতুন সূচনা হিসেবেও বিবেচিত হয়।
সিএ/এমআর


