টাঙ্গাইলের যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে মহাসড়কের একেবারে পাশে রয়েছে রেলপথ। ব্যস্ত এই সড়কে দিনরাত অসংখ্য যানবাহন চলাচল করায় গাড়ির শব্দে ট্রেনের আওয়াজ অনেক সময় শোনা যায় না। ফলে এ এলাকায় প্রায়ই ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) এই রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহাসড়কে চলাচলকারী একটি বাস থেকে নেমে কয়েকজন যাত্রী রেলপথের ওপর বসে ছিলেন এবং কেউ হাঁটাহাঁটি করছিলেন। ঠিক সেই সময় দ্রুতগতিতে একটি ট্রেন চলে আসে। কিন্তু ট্রেন কাছে চলে এলেও তারা বিষয়টি বুঝতে পারেননি।
নিহতদের সঙ্গে থাকা নূর ইসলাম জানান, তিনিসহ আরও কয়েকজন তখন রেলপথের ওপর ছিলেন। তবে ট্রেন আসার কিছুক্ষণ আগে তিনি সেখান থেকে নেমে যান। এরপর তাঁর চোখের সামনেই পাঁচজন ট্রেনে কাটা পড়েন। তিনি বলেন, ‘মহাসড়কে প্রচুর যানবাহনের চাপ ছিল। ওই সব যানবাহনের শব্দ ও হর্নের কারণে তাঁরা ট্রেনের আওয়াজ শুনতে পাননি। তা ছাড়া যানবাহনের আলোর কারণে ট্রেনের আলো বোঝা যাচ্ছিল না। ট্রেন একেবারে কাছে আসার পর বোঝা যায়।’
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন যমুনা সেতু চালু হওয়ার পর সেতুর পূর্ব প্রান্তে এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ওই সড়কের পাশ দিয়েই ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রেলপথ স্থাপন করা হয়।
শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে ইব্রাহীমাবাদ রেলস্টেশন থেকে কালিহাতী উপজেলার ধলাটেংগুর এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার রেলপথ মহাসড়কের একেবারে পাশ দিয়ে গেছে। এর মধ্যে ইব্রাহীমাবাদ রেলস্টেশনের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় নেটের প্রাচীর দেওয়া আছে। ওই অংশ ছাড়া অন্য জায়গাগুলো দিয়ে সহজেই মানুষ রেলপথে উঠে যেতে পারে।
মহাসড়কের পাশে গোহালিয়াবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেখা যায়, সেতু পার হওয়ার পর অনেক যানবাহন থামছে। এসব যানবাহনের যাত্রীরা রেলপথ পার হয়ে আশপাশে যাচ্ছেন, কেউ কেউ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে সেখানে যান। স্থানীয়দের ভাষ্য, যানবাহন বিকল হলে বা অন্য কোনো কারণে থামলে যাত্রীরা বাস থেকে নেমে রেলপথে গিয়ে বসেন কিংবা হাঁটাহাঁটি করেন। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।
টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান বলেন, গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর থেকে ছেড়ে আসা বনশ্রী পরিবহনের একটি বাস শুক্রবার সকালে মির্জাপুরের গোড়াই শিল্প এলাকার উদ্দেশে রওনা হয়। সন্ধ্যার পর তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বাসটি যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে রেলপথ লাগোয়া মহাসড়কে থামে। পরে বাসের কয়েকজন যাত্রী রেলপথে বসে বা হাঁটাহাঁটি করছিলেন। তখন সিরাজগঞ্জগামী সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে পাঁচজন নিহত হন।
রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তের এই রেলপথে প্রায় প্রতি মাসেই ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মহাসড়কের খুব কাছাকাছি রেলপথ থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইব্রাহীমাবাদ রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার রফিকুল ইসলাম বলেন, এই এলাকায় মানুষ প্রায়ই রেলপথে হাঁটাহাঁটি করেন। ফলে দুর্ঘটনাও বেশি ঘটে। জনসাধারণকে রেলপথে না ওঠার জন্য নিয়মিত স্টেশনের মাইকে প্রচার করা হয় বলে তিনি জানান।
সিএ/এমই


