প্রযুক্তির উন্নতিতে মানুষ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংযুক্ত। তবুও নিঃসঙ্গতার অনুভূতি কমার বদলে বরং বেড়েই চলেছে। জনাকীর্ণ পরিবেশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সম্পর্কের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও অনেক মানুষ নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিঃসঙ্গতা একক কোনো অনুভূতি নয়; বরং এটি দুঃখ, রাগ, ঈর্ষা এবং অপূর্ণতার মতো নানা আবেগের সমন্বয়। কেউ ভিড়ের মধ্যে থেকেও নিজেকে অচেনা মনে করেন, আবার কারো ক্ষেত্রে সম্পর্কের ভেতরেই তৈরি হয় মানসিক দূরত্ব। ফলে শারীরিক উপস্থিতি থাকলেও আবেগগত সংযোগের অভাব থেকেই যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিক শহরের ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে নিঃসঙ্গতার হার তুলনামূলকভাবে বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখার সুযোগ থাকলেও তা অনেক সময় নিজেকে আরও বিচ্ছিন্ন মনে করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের একটি বড় অংশ প্রায়ই নিঃসঙ্গতা অনুভব করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান বাড়লে নিঃসঙ্গতা তীব্র হয়। অনেক ক্ষেত্রে একটি অর্থবহ সম্পর্কই যথেষ্ট হতে পারে, আবার অনেকের জন্য বৃহৎ সামাজিক পরিসরও তৃপ্তি দেয় না।
নিঃসঙ্গতার পেছনে বিবর্তনীয় কারণও রয়েছে। এটি এক ধরনের সতর্ক সংকেত, যা মানুষকে সামাজিক সংযোগ খুঁজতে উদ্বুদ্ধ করে। তবে আধুনিক জীবনে এই সংকেত অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে পরিণত হয়।
সমাধান হিসেবে বিশেষজ্ঞরা অর্থবহ সম্পর্ক গড়ে তোলা, অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন। প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোও নিঃসঙ্গতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
সিএ/এমআর


