খেলাধুলা বা দুর্ঘটনায় আঘাত পাওয়ার পর অনেক সময় পেশিতে ফুলে শক্ত গাঁটের মতো কিছু তৈরি হতে দেখা যায়। শুরুতে এটি সাধারণ আঘাত বা মাংসপেশির টান মনে হলেও কিছু ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ পর সেখানে হাড়ের মতো শক্ত টিস্যু তৈরি হয়। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে মায়োসাইটিস অসিফিকান্স বলা হয়।
সাধারণত জোরে আঘাত লাগলে পেশির ভেতরে রক্ত জমে যায়, যা সময়ের সঙ্গে শরীর নিজেই শুষে নেয়। তবে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে বারবার চাপ দেওয়া, জোরে মালিশ করা বা দ্রুত ভারী ব্যায়াম শুরু করলে সেখানে অস্বাভাবিকভাবে ক্যালসিয়াম জমে শক্ত টিস্যু তৈরি হতে পারে। এটি বিশেষ করে ঊরুর সামনের অংশ ও বাহুর পেশিতে বেশি দেখা যায়।
লক্ষণ হিসেবে আঘাতের দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর আক্রান্ত স্থান শক্ত হয়ে যাওয়া, ফুলে থাকা, চাপ দিলে ব্যথা অনুভব হওয়া এবং হাত-পা নড়াচড়ায় সমস্যা দেখা দেয়। সময়ের সঙ্গে ব্যথা কিছুটা কমলেও শক্ত গাঁট থেকে যেতে পারে।
প্রাথমিকভাবে সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আঘাতের পর বিশ্রাম, বরফ সেঁক এবং হালকা নড়াচড়া বজায় রাখা প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে জোরে মালিশ, গরম সেঁক, জোরপূর্বক স্ট্রেচিং বা দ্রুত ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলা উচিত।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে হালকা স্ট্রেচিং ও পেশি শক্ত করার ব্যায়াম সহায়ক। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফিজিক্যাল মেডিসিন ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার ছাড়াই সুস্থ হওয়া সম্ভব। তবে দীর্ঘ সময়েও সমস্যা না কমলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
আঘাতের পর ব্যথা ও ফোলা বাড়তে থাকলে বা আক্রান্ত স্থান অস্বাভাবিক শক্ত হয়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সিএ/এমআর


