সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত হয়ে মারা গেছেন বাংলাদেশি প্রবাসী আবদুল্লাহ আল মামুন (৩৫)। তাঁর বাড়ি গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামে। বৃহস্পতিবার ( ৫ ডিসেম্বর) পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার জানায়, ঈদুল ফিতরের এক মাস পর দেশে ফেরার কথা ছিল মামুনের। দেশে ফিরে নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি। তবে আকস্মিক এই মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর সব স্বপ্ন ও পরিকল্পনা থেমে গেছে।
আবদুল্লাহ আল মামুন ভরভরা গ্রামের শহীদ সওদাগরের ছেলে। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। প্রায় ১৫ বছর আগে সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সর্বশেষ পাঁচ বছর আগে দেশে এসেছিলেন। তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০) এবং মাহেদী শেখ (৬) নামে একটি ছেলে রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৮ মার্চ ইফতারের আগমুহূর্তে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির শ্রমিক ক্যাম্পে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হন মামুন। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বুধবার (৬ ডিসেম্বর) তাঁর মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিশেষ করে তাঁর মা শাহিদা খাতুন শোকে ভেঙে পড়েছেন। শাহিদা খাতুন বলেন, ‘আমরা অসহায় গরিব মানুষ। আমার বাবারে টেকার জন্য বিদেশ পাঠাইছি। আমার বাবা খালি কইছে টেহা কামাইয়া বাড়িঘর করবাম। আমার বাবা তো বাড়িঘর কিচ্ছু করতারলো না। একটা ছেরা আছে, তার লাগি কিছু করতারলো না, বাপ-মার লাগিও কিছু করতারলো না। সরকারের কাছে আবেদন জানাই আমার পুতের লাশ যত তাড়াতাড়ি পারে আইনা দেওক।’
সন্তানের মৃত্যুর খবরে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা শহীদ সওদাগরও। তিনি বলেন, ‘আমরা যে কী কইরা চলব, নাতি যে কী কইরা চলবো, সরকার তার একটা পথ কইরা দেওক। সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই যেভাবেই হোক লাশ দেশে এনে দিক।’
গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন এম আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, ‘ওই পরিবারের কাছে ঈদের দিনের যাবতীয় সামগ্রী আমরা পৌঁছে দিচ্ছি। দেশে দ্রুত লাশ আনার জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে প্রচেষ্টা শুরু করা হচ্ছে।’
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান জানান, নিহত প্রবাসীর পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যিনি মারা গেছেন, তাঁর পরিবারকে কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সেই বিষয়ে পরিকল্পনার জন্য ইউএনওকে বলা হয়েছে। মরদেহ আগে দেশে আসুক, দাফন হোক। তারপর স্ত্রী ও পরিবারের স্বনির্ভরতার জন্য প্রয়োজনীয় যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার, সেসব বিষয়ে আমরা সাহায্য-সহযোগিতা করব।’
সিএ/এমই


