পবিত্র রমজান মাসকে আত্মশুদ্ধি ও নেক আমলের মাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই মাসে ইবাদতের পাশাপাশি মা-বাবার সেবা ও তাদের সন্তুষ্টি অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে ইসলামে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ওই ব্যক্তির নাক মলিন হোক, যার কাছে আমার কথা আলোচনা করা হলো অথচ সে আমার ওপর দরুদ পাঠ করল না। ওই লোকের নাক মলিন হোক, যার কাছে রমজান মাস এলো, তারপর তাকে ক্ষমা করার পূর্বেই রমজান শেষ হয়ে গেলো, অথচ সে ক্ষমাপ্রাপ্ত হলো না। ওই ব্যক্তির নাক মলিন হোক, যে তার মা-বাবাকে বার্ধক্য অবস্থায় পেয়েও তাকে জান্নাতে নিতে পারল না।’
ইসলামের শিক্ষায় মা-বাবার প্রতি সদাচারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়েছে। তাদের সন্তুষ্টি অর্জনকে আল্লাহর সন্তুষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়েছে। ফলে রমজান মাসে ইবাদতের পাশাপাশি তাদের খেদমত করার মাধ্যমে জান্নাত লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, মা-বাবার দোয়া মানুষের জীবনে সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। পার্থিব জীবনেও তাদের আশীর্বাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই মাসে তাদের প্রতি দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের জীবনের সফলতা ও পরকালের মুক্তি নিশ্চিত করতে পারে।
পবিত্র কোরআনে মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের নির্দেশনা স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রতি বিনয়ী আচরণ, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং নিয়মিত দোয়া করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তাদের বার্ধক্যে যত্ন নেওয়া একজন সন্তানের দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত।
রমজান মাস এই দায়িত্বগুলো আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ করে দেয়। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি আহ্বান, এই মাসে মা-বাবার সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে সফল করে তোলা।
সিএ/এমআর


