চৈত্রের রোদে মৌলভীবাজার শহরের কোর্ট রোডে নাগেশ্বরের গাছজুড়ে দুলছে সাদা ও সোনালি-হলুদ ফুল। এই ফুলগুলো যেন একদল রাজকুমারীর মতো হাওয়ায় দুলছে, পথচারীদের মনভোলাচ্ছে। কোর্ট রোডের সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে দুটি নাগেশ্বরের গাছে অসংখ্য ফুল ফুটেছে, পাতার ফাঁক গলে ফুলগুলো দুলছে এবং দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য উপহার দিচ্ছে।
মৌসুমের বৃষ্টির ছোঁয়া গাছের পাতা ও ডাল থেকে ধুলো মুছে দিয়েছে। ফলে ফুল ও পাতা উজ্জ্বল সবুজে ফিরে এসেছে। ফুলের মধ্যে দুধসাদা পাপড়ি এবং সোনালি-হলুদ পরাগ চোখে পড়ছে। গাছের নিচ থেকে চূড়া পর্যন্ত থরে থরে ফুল ফুটেছে, যা হাওয়ার সঙ্গে দুলতে দুলতে প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছে।
নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মার ‘শ্যামলী নিসর্গ’ বই থেকে জানা যায়, নাগেশ্বর হিমালয়ের পূর্বাঞ্চল থেকে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে সহজলভ্য। সিলেট অঞ্চলেও এটি জন্মে। ফুলটি পূজা, গৃহসজ্জা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ। নাগেশ্বর একটি দীর্ঘাকৃতির বৃক্ষ, যার কাণ্ড গোল, সরল ও মৃদু ধূসর। বসন্তকালে ফুলের মুকুল গোলাকৃতি এবং সবুজ-সাদা হয়।
ফুলের মুক্ত প্রসারিত দুধসাদা পাপড়ির মাঝখানে অজস্র সোনালি-হলুদ পরাগ থাকে। ফল প্রথমে তামাটে, পরে বাদামি হয়। কাঠ অত্যন্ত দৃঢ় এবং খুঁটি, পুল, রেলের স্লিপার এবং ঘরের কাজে ব্যবহারযোগ্য। এর বৈজ্ঞানিক নাম Mesua nagassarium। বাংলায় নাগেশ্বর বা নাগকেশর নামে পরিচিত, ইংরেজিতে আয়রন উড।
শহরতলির বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক সংলগ্ন বন বিভাগের বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রবেশপথে এবং শহরের অন্যান্য স্থানে নতুন করে নাগেশ্বরের গাছ লাগানো হয়েছে। এগুলো শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছে এবং স্থানীয়দের জন্য প্রকৃতির আনন্দ উপহার দিচ্ছে।
সিএ/এমই


