ডিম্বাকার একটি বিলজুড়ে এখন আমন ধানের কচি চারা। মাঘ মাস পর্যন্ত বিলের জমিগুলোতে হাঁটুসমান পানি থাকলেও ধীরে ধীরে তা নেমে কাদামাটিতে পরিণত হয়। মাঝখানে গোলাকৃতির একটি জলাশয়ে জমে থাকা পানিও সময়ের সঙ্গে কমে গিয়ে থকথকে জলকাদায় রূপ নেয়।
এমন পরিবেশেই এক কিশোর ছিপ-বড়শি নিয়ে জলাভূমির পাড়ে আসে। বড়শিতে ছোট একটি ব্যাঙ গেঁথে রেখে সে অপেক্ষা করে। এই বিলেই মাঝে মাঝে দেখা মেলে শামুকভাঙা পাখির, যারা শামুক, মাছ ও জলজ প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে। আপেল শামুক তাদের অন্যতম প্রিয় খাদ্য।
অন্যদিকে দূর থেকে উড়ে আসে একঝাঁক কাস্তেঠোঁটের কাঁচিচ্যাগা। আকাশে ওড়ার সময় তাদের ডানার ছন্দময় ওঠানামা ও সুরেলা ডাক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করে। জলাশয়ে নেমে তারা কাদায় ঠোঁট ডুবিয়ে খাবার খোঁজা শুরু করে। তাদের বাঁকানো ঠোঁট কাঁচির মতো কাজ করে, যা দিয়ে সহজেই জলজ পোকামাকড় ও কেঁচো ধরতে পারে।
এই পাখিগুলো জলাভূমি, হাওর-বাঁওড়, বিল-ঝিল, নদীতীর এমনকি ধানক্ষেতেও খাবার খুঁজে বেড়ায়। কখনো হাঁটুসমান কাদায়, আবার কখনো গভীর পানিতেও স্বচ্ছন্দে বিচরণ করে। তাদের চলাফেরা ও খাদ্য অনুসন্ধানের ভঙ্গিতে রয়েছে বিশেষ নান্দনিকতা।
তবে বিপদের মুখেও পড়ে এই পাখিরা। আপেল শামুকের খোলের মধ্যে পা আটকে গেলে তারা আতঙ্কে ছটফট করতে থাকে। যদিও বেশ চতুর হওয়ায় অধিকাংশ সময় তারা বিপদ এড়িয়ে যেতে পারে।
কাস্তেঠোঁটের এই পাখিগুলো মূলত শীতকালীন পরিযায়ী। কাস্তেচ্যাগা, কাঁচিচ্যাগা বা রাঙাচ্যাগা নামেও পরিচিত এদের। ইংরেজি নাম Whimbrel এবং বৈজ্ঞানিক নাম Numenius phaeopus। প্রায় ৪৩ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এই পাখিগুলোর দেহে হালকা হলুদ রং, কালো-সাদা ডোরাকাটা ডানা এবং বাঁকানো ঠোঁট তাদের আলাদা পরিচয় তৈরি করে।
সিএ/এমআর


