মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সিরিয়ায় রমজান মাস শুধু ধর্মীয় অনুশীলনের সময় নয়, বরং এটি সামাজিক বন্ধন ও সংস্কৃতির এক বিশেষ প্রতিফলন। রাজধানী দামেস্ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঞ্চলে এই মাসে এক ভিন্ন আবহ লক্ষ্য করা যায়।
সিরীয়দের ইফতারের টেবিল, যা ‘সুফরা’ নামে পরিচিত, সেখানে খাবারের বৈচিত্র্য বিশেষভাবে চোখে পড়ে। ইফতার সাধারণত খেজুর ও স্যুপ দিয়ে শুরু হয়। এরপর পরিবেশন করা হয় জনপ্রিয় সালাদ ফাত্তুশ, যা পুদিনা, ডালিম ও ভাজা রুটির সংমিশ্রণে তৈরি।
প্রধান খাবারের মধ্যে কিববেহ, মাহশি ও ফাত্তাহ উল্লেখযোগ্য। এগুলো মাংস, চাল, ডাল ও দইয়ের মিশ্রণে তৈরি হয় এবং সিরীয়দের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতির অংশ। এছাড়া বিভিন্ন মিষ্টান্ন যেমন কাতায়েফ, বাকালাভা ও বিস্কুটজাতীয় খাবারও ইফতারের পর জনপ্রিয়।
রমজানে সিরিয়ায় একটি বিশেষ সামাজিক প্রথা ‘সাকবেহ’ লক্ষ করা যায়, যেখানে প্রতিবেশীদের মধ্যে খাবার বিনিময় করা হয়। এই প্রথা পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।
বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সিরীয়রা তাদের আতিথেয়তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। শরণার্থী শিবির বা শহরের ধ্বংসস্তূপেও সম্মিলিতভাবে ইফতার আয়োজন করতে দেখা যায়। এটি তাদের সামাজিক সংহতির এক অনন্য উদাহরণ।
সাহ্রির সময় হালকা ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের প্রচলন রয়েছে। পাশাপাশি ‘মুসাহারাতি’ নামে পরিচিত ঐতিহ্য অনুযায়ী ঢোল বাজিয়ে মানুষকে সাহ্রির জন্য জাগানো হয়, যা এখনো কিছু এলাকায় টিকে আছে।
সিএ/এমআর


