বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেছেন, আজ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো রেশনিং থাকবে না। যার ফলে জনগণ প্রয়োজনমতো তেল কিনতে পারবেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশে তেলের চাহিদা অতিরিক্ত বেড়ে গিয়েছিল। অতিরিক্ত ক্রয় ঠেকাতে সরকার ৬ মার্চ থেকে রেশনিং ও সরবরাহ সীমা আরোপ করেছিল। তবে ঈদযাত্রার আগে মানুষের ভোগান্তি কমাতে সীমা তুলে নেওয়া হলো।
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, মার্চ মাসে জ্বালানি তেল নিয়ে মোট ১৮টি জাহাজ আসার কথা, যার মধ্যে ১৪ মার্চ পর্যন্ত ৬টি জাহাজ আগেই পৌঁছেছে। ২৭ মার্চ পর্যন্ত আরও ৬টি জাহাজ আসার সময়সূচি রয়েছে। প্রতিটি জাহাজে ২৫–৩০ হাজার টন তেল থাকবে। মূলত ডিজেল আমদানি করা হবে, শেষ দুটি জাহাজে ডিজেলের সঙ্গে জেট ফুয়েলও থাকবে। এছাড়া ১৭ বা ১৮ মার্চে একটি জাহাজ ফার্নেস তেল নিয়ে আসার কথা। অকটেনের জন্যও খোলাবাজার থেকে জাহাজ কেনার চেষ্টা চলছে।
বর্তমানে দেশে ডিজেলের মজুত প্রায় দুই লাখ টন। জরুরি প্রয়োজনে আরও ৬০ হাজার টন ব্যবহার করা যেতে পারে। পেট্রল ও অকটেন মজুত রয়েছে ১৬ হাজার টন করে, যা প্রতিদিন ৬০০–৭০০ টনের হারে দেশীয় উৎস থেকে যোগ হচ্ছে। দেশের দৈনিক চাহিদা পেট্রল ও অকটেনে ১,১০০–১,২০০ টন।
জ্বালানি বিভাগের বরাতে প্রতিমন্ত্রী জানান, মার্চ মাসে তেলের কোনো সংকট হবে না। তবে কেউ চাহিদার চেয়ে বেশি তেল মজুত করলে চাপ তৈরি হতে পারে। এছাড়া জুন পর্যন্ত পরিশোধিত জ্বালানি চুক্তিভিত্তিকভাবে পাওয়া যাবে। তবে অপরিশোধিত তেল আমদানি ব্যাহত হলে মে মাসে সরবরাহ ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে যোগাযোগ করা হয়েছে।
সিএ/এমই


