পারিবারিক জীবনে মা ও স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ বা দ্বন্দ্ব নতুন কোনো বিষয় নয়। এমন পরিস্থিতিতে একজন মুসলিম পুরুষের করণীয় কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা ও জিম্বাবুয়ের প্রধান মুফতি ডক্টর মুফতি ইসমাইল ইবনে মুসা মেনক।
নিজের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ‘Wife or Mother – Who Is First?’ শীর্ষক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলাম মা ও স্ত্রী—উভয়ের মর্যাদাকেই গুরুত্ব দিয়েছে। কারও ভালোবাসা অন্য কারও অধিকার কেড়ে নেয় না।
মুফতি মেনক বলেন, “ইসলামে মা নাকি স্ত্রী কার গুরুত্ব বেশি, মাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে নাকি স্ত্রীকে—এ রকম প্রশ্ন অনেকেই করেন। অনেকে উত্তর দেন, মায়ের গুরুত্বই নিশ্চিতভাবে বেশি, কারণ জান্নাত মায়ের পায়ের নিচে যেমন নবীজি (সা.) বলেছেন। মা আপনাকে জন্ম দিয়েছেন, আপনার দেখাশোনা করেছেন এবং আপনার স্ত্রী আপনার জীবনে অনেক পরে এসেছেন। এই উত্তরটি সঠিক নয়। আমি বলি, উভয়ের গুরুত্বই বেশি।”
তিনি আরও বলেন, “আপনি হয়তো বলবেন, যদি কোনো বিবাদ হয় তবে কী হবে? আমি ব্যাখ্যা করি, আপনার মায়ের জন্য আপনার যে ভালোবাসা, তা আপনার স্ত্রীর প্রতি আপনার ভালোবাসা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।”
পারিবারিক দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে তিনি ন্যায়বিচারের ওপর জোর দেন। তার ভাষায়, “যখন কোনো বিবাদ হয়, তখন দেখতে হবে কে ন্যায় করছে, কে অন্যায় করছে। আপনার মা হোক বা আপনার স্ত্রী, যে সঠিক, আমরা তার পক্ষ নেব।”
মুফতি মেনক বলেন, ইসলাম কখনো অন্যায়ের পক্ষ নেওয়ার অনুমতি দেয় না। এমনকি বাবা-মা ভুল করলেও বিনয়ের সঙ্গে তাদের সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। তিনি কোরআনের আয়াত উল্লেখ করে বলেন, ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া মুসলমানের দায়িত্ব, তা নিজের বা নিকট আত্মীয়ের বিরুদ্ধেও হোক না কেন।
তিনি বলেন, “অনেক মানুষ বাবা-মাকে কষ্ট না দিতে চাওয়ার অজুহাতে বাবা-মাকে জীবনসঙ্গীর ওপর অত্যাচার করতে দেয়। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসলামে স্ত্রীর জন্য আলাদা আবাসনের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। যদি একই বাসায় থাকার কারণে স্ত্রী নির্যাতনের শিকার হন, তাহলে পরিস্থিতি বিবেচনায় পৃথক থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়াও প্রয়োজন হতে পারে।
মুফতি মেনক মা-বাবা ও পুত্রবধূ—উভয় পক্ষকেই পারস্পরিক দয়া, সম্মান ও যোগাযোগ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “সারকথা হলো, মা হোক বা স্ত্রী, সমস্যা বা ঝামেলার ক্ষেত্রে ‘ন্যায়বিচার’ই আগে আসে, আর দয়া ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে দুজনই আগে।”
সিএ/এমআর


